পেন্টাগনের ওপর রুশ গোয়েন্দা বিমানের নজরদারি

0
31

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর ও মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলসহ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সরকারি ভবনের উপর উড়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছে একটি রুশ গোয়েন্দা বিমান।

স্থানীয় সময় বুধবার রাশিয়ার বিমান বাহিনীর গোয়েন্দা বিমান টিউপোলেভ টিইউ-১৫৪ নজরদারি চালায় বলে জানায় মার্কিন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ ৩২টি দেশের মধ্যে সম্পাদিত ‘মুক্ত আকাশ চুক্তি’র আওতায় এ নজরদারি চালায় রুশ বিমানটি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, এ চুক্তি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ঠিকমতো প্রতিপালন এবং এ সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে একে অপরের ওপর অস্ত্রহীন বিমান দিয়ে নজরদারি করতে পারবে।

আর চুক্তির অংশ হিসেবে রুশ বিমানটির উড়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই অবহিত করা হয়।

এ কারণে বুধবার মার্কিন ক্যাপিটল পুলিশ ওয়াশিংটন শহরে সতর্কতা জারি করে।

এতে বলা হয়, সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে অনুমোদিত একটি বিমান খুব নিচ দিয়ে উড়ে যাবে।

তবে সতর্কবার্তায় বলা হয়, বিমানটি কোন দেশের বলা না হলেও এটি খুব বড় আকারের বিমান হবে এবং তা কংগ্রেস ভবনের উপর দিয়ে উড়ে যাবে।

এছাড়া ওই ফ্লাইটটি মার্কিন ক্যাপিটল হিল পুলিশ এবং অন্য ফেডারেল সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জানা গেছে, ওই বিমানটি উড়ে যাওয়ার বিষয়ে সর্বপ্রথম প্রতিবেদন প্রচার করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানায়, বুধবার বিকালে বেডমিনিস্টারে ট্রাম্পের অবকাশকেন্দ্রের ওপর দিয়ে আরেকটি রুশ বিমানের উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

মুক্ত আকাশ চুক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, রুশ বিমান উড়ে যাওয়ার সময় এতে মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন যাতে করে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মেরিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিনসেন্ট স্টুয়ার্টের মতে, মুক্ত আকাশ চুক্তি থেকে রাশিয়া সুবিধা নিচ্ছে ।

গত বছর তিনি মার্কিন কংগ্রেসের আর্মড সার্ভিস কমিটির উপকমিটিকে হুমকির কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে রুশ বিমানকে মুক্ত আকাশ চুক্তির আওতায় মার্কিন আকাশে উড়তে না দেয়ার কথা বলেন।

মুক্ত আকাশ চুক্তির আওতায় রাশিয়ার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিমানও নজরদারি চালায়। গত বছর রাশিয়ায় একটি ওসি–১৩৫বি বিমানের সাহায্যে নজরদারি চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

এ তথ্য জানিয়ে গত বছরই স্টুয়ার্টের অভিমতকে নাকচ করে দিয়েছিলেন পেন্টাগনের মুখপাত্র নৌ ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার গোপন সখ্যতার অভিযোগের কারণে এবার রুশ বিমানের নজরদারির বিষয়টি দেশটির মানুষ এখন আর ভালো চোখে দেখছে না। অনেকেই এ নিয়ে রাশিয়াকে সন্দেহও করছেন।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here