পুলিশ প্রহরায় টানটান উত্তেজনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের সামনে পরস্পর বিরোধী কর্মসূচি

0
173

নিউইয়র্ক থেকে : পুলিশ প্রহরায় টানটান উত্তেজনার মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অফিসের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উদ্যোগে পরস্পর বিরোধী কর্মসূচি পালিত হলো। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ থেকে কন্স্যুলেট ভবনে হামলার আশংকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপিকে প্রতিহত করার সংকল্পে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক সিটিতে এমন উত্তেজনা তৈরী হয় ৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে। পরস্পর বিরোধী স্লোগান এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদানের ঘটনা ঘটলেও বেশ কয়েক ডজন পুলিশের উপস্থিতির জন্যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ৩ ঘন্টা স্থায়ী কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা সত্বেও উভয় কর্মসূচিতে বিপুল লোক সমাগম ঘটে।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে বিএনপির কর্মীদের হামলার ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয় আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে। ‘আদালতের রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে কোন নাশকতামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্ক শহরে মহাসমাবেশ’ লেখা ব্যানারে জড়ো হওয়া নেতৃবৃন্দের স্লোগান ছিল, ‘রায় নিয়ে সন্ত্রাস জনগণ মানবে না’, ‘আদালতের রায় মানতে হবে’, ‘সন্ত্রাস জনগণ মানবে না মানে না’, ‘শেখ হাসিনা সরকার-বারবার দরকার’ ইত্যাদি। এ স্লোগানে গলা মিলিয়েছেন কন্স্যুলেটে আসা সাধারণ প্রবাসীরাও।

এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালতের রায় যারা মানতে চায় না, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।’‘যারা হাই কমিশনে হামলা করে তারা বাংলাদেশের শত্রু। ওরা জামাত-শিবিরের এজেন্ট। নিউইয়র্কে এ ধরনের আচরণ বরদাশত করা হবে না’-উল্লেখ করেন ড. সিদ্দিক।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, ‘স্বল্প সময়ের নোটিশে আজকের এ কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা আবারো প্রমাণ দিলেন যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে কোন অপতৎপরতা প্রতিহত করতে মুজিব সৈনিকেরা বদ্ধ পরিকর।’

এ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, নির্বাহী সদস্য শাহানারা রহমান, আজিজুর রহমান সাবু, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস প্রমুখ।

কন্স্যলেট অফিসের সামনে রাস্তার অপর পাড়ে পুলিশ বেষ্টনীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধচিত্তে নানা স্লোগানে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। গ্রেফতার অভিযান বন্ধ করার মধ্য দিয়ে সামনের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

খালেদার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরই বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের এই কর্মসূচিতেও যুবদল, জাসাস, ছাত্রদল, তারেক পরিষদ, জাতীয়তাবাদি ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা দলের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ স¤্রাট, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস আহমেদ, আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া, জিল্লুর রহমান, আকতার হোসেন বাদল, জসীম ভ’ইয়া, জসীমউদ্দিন, এম এ বাতিন, জাকির এইচ চৌধুরী, মিল্টন ভ’ইয়া, গোলাম ফারুক শাহীন, পারভেজ সাজ্জাদ, রফিকুল ইসলাম ডালিম, ফারুক হোসেন মজুমদার, কাজী আজম, রাফেল তালুকদার, এম এ সবুর, আবু সাঈদ আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম জনি, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি।

এ সময় প্রদত্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার মতলবে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো মামলায় ফরমায়েসী রায় দেয়া হয়েছে, যা প্রবাসীরা কখনোই মেনে নেয়নি।’বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে হায়েনা মুক্ত করতে দেশ ও প্রবাসে একযোগে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির অন্যতম সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দূরের কথা, নামটি পর্যন্ত উচ্চারিত হচ্ছে না। এমন সরকারের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। ’

সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভ’ইয়া বলেন, ‘৩বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত প্রবাসে সৃষ্ট এই আন্দোলন অব্যাাহত থাকবে।’তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই একদলীয় স্বৈরশাসন মেনে নেবে না।’  যুবদল নেতা এম এ বাতিন বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার পরিবার কখনো অন্যায় করেনি। এতদসত্বেও বেগম জিয়াকে কারাগারে ঢুকিয়ে মূলত: গোটা বাংলাদেশের মানুষকেই ধোকা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’