পুরুষের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

0
158

woman-heart-painনারীরা সব সময় ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়েই চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু ব্রেস্ট  ক্যান্সারের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে নারীদের মৃত্যুর হার ৬ গুণ বেশি। এই রোগটির সম্ভাব্য কারণ নারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রে রক্তনালীর একটি স্থানেই ব্লকেজ হয়ে থাকে। এটি এঞ্জিওপ্লাস্টি বা বাইপাস গ্রাফট করে ঠিক করা যায়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এটি বিস্তৃত স্থানে হয়ে থাকে বা ছড়িয়ে যায়। তবে এই সমস্যাটির ও সমাধান করা সম্ভব। পুরুষের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, নারীদের মধ্যে প্রায়ই অ্যাজিনার (হৃদপিন্ডে রক্ত প্রবাহের অপ্রতুলতার জন্য অল্প পরিশ্রমেই বুকে যে ব্যথা হয়) লক্ষণ দেখা যায়, কিন্তু করোনারি ধমনীতে  কম বাঁধা দেখা যায়। এজন্যই এঞ্জিওগ্রাফির মাধ্যমে ধমনীর ব্লক চিহ্নিত করা কঠিন। এছাড়াও ৪০% নারীরই হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা থাকেনা। তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও প্রচন্ড দুর্বলতার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের সময় হাতে ব্যথা হয় কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সময় পিঠে বা কাঁধে ব্যথা হয়।

সুস্থ নারীদের তুলনায় যে নারীদের ডায়াবেটিস আছে তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি ৩ গুণ বেশি। প্রেগনেন্সির সময় যে নারীরা উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা বা পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজে ভোগেন তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

নারী ধূমপায়ীদের পুরুষদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি। ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) এর মাত্রা কম এবং খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) এর মাত্রা বেশি থাকলে নারীদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এইচডিএল এর মাত্রা ৫০ এর উপরে এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা ১০০ এর নীচে রাখার চেষ্টা করুন।

অধিক ওজনের নারীদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি, যদি তাদের অন্য কোন রিস্ক ফ্যাক্টর নাও থাকে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন।

হরমোন থেরাপি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় না। আগে বিশ্বাস করা হত যে, নারীদের কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ কমে যায় মেনোপোজের পরে। নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে যে, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় না।

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানোর জন্য ৪ টি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আর তা হল – সঠিক খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান বাদ দেয়া (যদি ধূমপানের অভ্যাস থেকে থাকে) এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এগুলো অনুসরণ করলে আপনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮২% পর্যন্ত কমাতে পারবেন।