পিউ রিসার্চের জরিপ, অর্ধেকের বেশি ভারতীয় স্বৈরশাসক চান

0
45
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ভারতের পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা রাখলেও অধিকাংশ জনগণ সেনাশাসন বা একনায়কতন্ত্র পছন্দ করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের পাঁচ ভাগের চার ভাগ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা রাখে। তবে অধিকাংশ জনগণ সেনাশাসন বা একনায়কতন্ত্র পছন্দ করে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউয়ের নতুন এক জরিপে এ তথ্য ওঠে এসেছে। জরিপে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৩ শতাংশ জনগণ মনে করে, শাসনব্যবস্থা হিসেবে সেনাশাসন থাকলে তাদের দেশের জন্য ভালো হতো। অন্যদিকে ৫৫ শতাংশ জনগণ একনায়কতন্ত্রকে তাদের দেশে জন্য ভালো মনে করে। এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা বা এ ধরনের কোনো শাসনব্যবস্থা পক্ষান্তরে তা স্বৈরশাসনও হতে পারে; এই ৫৫ শতাংশ মানুষ তার পক্ষে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

স্বৈরশাসন বা একনায়কতন্ত্রের পক্ষে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থন করার এই চিত্র গণতন্ত্রের জন্য হতাশাজনক হলেও একই ভারতের ৮৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যমান জাতীয় সরকার ব্যবস্থায় আস্থা রাখে। তবে এই ৮৫ শতাংশের মধ্যে অনেকে মনে করে সেনাশাসন হলেও তাদের দেশের জন্য তা ভালো হতো। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ভারতের শাসনব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে জনগণের এই দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে গড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী ভারতের ৮৫ শতাংশ জনগণ তাদের জাতীয় সরকারের প্রতি সমর্থন করে।

বিশ্বের ৩৮টি দেশে ‘শাসনব্যবস্থা ও জনগণের আস্থা’ শীর্ষক জপির পরিচালনা করেছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাশাসন বা একনায়কতন্ত্রের দিকে একাংশের মানুষের ঝোঁক থাকলেও এসব দেশের অধিকাংশ মানুষ শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রেই বেশি বিশ্বাস করে। সোমবার জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, ভারতের ২৮ শতাংশ মানুষ ‘একজন শক্তিশালী নেতা’ চায়। তাদের মতে, একহাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা থাকলে শাসনব্যবস্থা আরো ভালো হতো।

একজন শক্তিশালী নেতার হাতে সরকার পরিচালনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি মত দিয়েছে রাশিয়ার জনগণ। দেশটির ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, এ ধরনের শাসন ভালো। তবে এ ধরনের শাসনব্যবস্থা সাধারণত অজনপ্রিয়। বৈশ্বিকভাবে এক ব্যক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থার পক্ষে ২৬ শতাংশের সমর্থন পাওয়া গেছে। তারা মনে করে, পার্লামেন্ট বা আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া একজন শক্তিশালী নেতা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন, যা শাসনব্যবস্থা হিসেবে একটি ভালো উপায়। তবে এ ধারণার বিরুদ্ধে মত দিয়েছে ৩৮ দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাত্র তিনটি দেশের ৫০ শতাংশের বেশি জনগণ টেকনোক্স্যাসিকে (বিশেষজ্ঞ এলিট শ্রেণির শাসনব্যবস্থা) সমর্থন করে, যার মধ্যে ভারত একটি। ভিয়েতনামে ৬৭ শতাংশ, ভারতে ৬৫ শতাংশ ও ফিলিপাইনে ৬২ শতাংশ মানুষ টেকনোক্স্যাসিকে সমর্থন করে। বিশেষজ্ঞ এলিট শ্রেণির এই শাসনব্যবস্থায় তাদের আস্থা রয়েছে। তবে অষ্ট্রেলিয়ার ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করে, এ ধরনের শাসনব্যবস্থা ভালো নয়।