পানামা-প্যারাডাইস কেলেঙ্কারি, ৫৩ বাংলাদেশির ব্যাপারে তদন্ত করছে দুদক

0
116

ঢাকা: পানামা ও প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ৫৩ বাংলাদেশির নামের তালিকা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। তাদের মধ্যে পানামা কেলেঙ্কারির ৪২ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে গত বছরের এপ্রিল থেকেই কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এখন প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত ২১ বাংলাদেশির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে দুদক।

এদিকে গতকাল রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্যারাডাইস পেপারসখ্যাত গোপন নথিতে বাংলাদেশি যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।’

পানামা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৪২ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করে বিদেশে অফশোর কোম্পানি খুলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) এই কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করার পর বিশ্বব্যাপী আলোড়ন দেখা দেয়। ওই সময় দুদক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে ৪২ বাংলাদেশির নাম সংগ্রহ করে। তাদের মধ্যে ৩২ জনের নাম সমকালের কাছে রয়েছে- যারা প্রভাবশালী রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ ক্ষমতাবান পেশাজীবী।

এবার আইসিআইজে প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করার পর ২১ বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ খবর এরই মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য আমলে নিয়েছে দুদক। কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে যাচাই-বাছাই কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে কি-না, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, প্যারাডাইস কেলেঙ্কারির বিষয়ে গণমাধ্যম থেকে সবেমাত্র তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো বিচার-বিশ্নেষণ করা হবে। পরে কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী, অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তের এখতিয়ার দুদকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ, এনবিআর ও সিআইডিরও রয়েছে। আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অভিযোগটি দুদক এককভাবে অনুসন্ধান করতে পারে। অথবা ওই সব সংস্থার কোনো একটিকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবেও তদন্ত হতে পারে।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য চেয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও ওই সব দেশ থেকে কোনো তথ্য বা উত্তর পাওয়া যায়নি।

এক বছর আট মাস ধরে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। পাশাপাশি তাদের সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ জন অভিযুক্তের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে নয়জন ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ছয়জনের কাছে পাঠানো চিঠি ফেরত এসেছে। তারা পানামা পেপারসে উল্লেখ করা ঠিকানায় অবস্থান করেন না।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গত বছরের প্রথম দিকে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর আইসল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে গত দুই বছরেও কোনো তদন্ত সংস্থা থেকে বাংলাদেশের ৪২ জনের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দুদকের উপপরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম পানামা কেলেঙ্কারির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এ কার্যক্রম তদারক করছেন পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। টিমের আরও দুই সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাৎ।

সংসদেও আলোচনা : এদিকে, প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের টাকার হিসাব এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী। গতকাল জাতীয় সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

রুস্তম আলী বলেন, এর আগে পানামা পেপারসে অনেকের নাম এসেছিল। বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও তা হয়নি। এবার ২১ জনের নাম এসেছে। আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ অনেকের নাম এসেছে। তারা বারমুডায় বিনিয়োগ করেছেন কেন? কারণ, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে হলে কর দিতে হয়। তাদের উদ্দেশ্য কর ফাঁকি দেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here