পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না: তোফায়েল

0
96

ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের দেওয়া সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিষয়ক রায়ের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রায়ের সঙ্গে পর্যালোচনার নামে জাতীয় সংসদকে এবং জনগণকে ছোট করা হয়েছে। পাকিস্তানের বিচার বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান একটি পরাজিত রাষ্ট্র। সবদিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বলা আছে- সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই মহান সংসদের সদস্য। রায় পর্যালোচনার নামে জাতীয় সংসদ, জাতীয় সংসদের সদস্য ও সর্বোপরি দেশের জনগণকে ছোট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ড. কামাল সংবিধান প্রণেতা। তিনি এখন স্ববিরোধী কথা বলছেন। আমরা সবাইকে চিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা সব সময় অটুট থাকবে। বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ যাতে বেঁচে না থাকে এবং তারা  রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে না পারে সে জন্যই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জিয়া তা প্রমাণ করেছেন। আর বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশীদকে সংসদ সদস্য বানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রীও বানিয়েছিলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের দেশে পুনর্বাসিত করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামকে এ দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন। পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী গোলাম আযমকে দেশে এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। জঙ্গি উত্থানের বীজ জিয়া রোপণ করেছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন বাঙালি জাতির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। অধিকার আদায়ের জন্য তিনি বাঙালি জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে ছিলেন। বাঙালি জাতিকে দেশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পরই তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান বাঙালি জাতির জন্য সৃষ্টি হয়নি, পাকিস্তানি কাঠামোয় বাঙালি জাতির অধিকার আদায় করা যাবে না। বাঙালিদের ভাগ্যনির্ধারক, বাঙালিদেরই হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুসফিকা ইকফাৎ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল খান চৌধুরী, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. শাফিনুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর, আমদানি ও রফতানি অধিদপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক আফরোজা খানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।