নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের: টিআইবি

0
55

ঢাকা: সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বোঝা বহন সম্ভব নয় উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গৃহহীন ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহনের এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি পরিচালিত ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে অবস্থানজনিত সমস্যা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জবিষয়ক সমীক্ষা’ এর প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বুধবার সকালে টিআইবি’র ধানমণ্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে অবিলম্বে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ ও কঠোর অবরোধ আরোপের মাধ্যমে দ্রুত সব রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ত্রাণতৎপরতার ব্যয় প্রাক্কলন ও নির্বাহের আহ্বানও জানিয়েছে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র উপদেষ্টা, নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবি’র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন ইউনিটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী টিআইবি’র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন ইউনিটের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার, গবেষণা মো. রাজু আহমেদ মাসুম।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও আশ্রয় ব্যবস্থাপনার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে সমীক্ষাটি এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মধ্যে পরিচালিত হয়।

সমীক্ষায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ থেকে শুরু করে অস্থায়ী শিবিরে পৌঁছানোর পদ্ধতি, মৌলিক চাহিদাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানে গৃহীত উদ্যোগ, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত বিপর্যয়ের শংকা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের দায়িত্ব ও সমন্বয় এবং বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়।

এতে সুশাসনের চারটি নির্দেশক- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমতা ও সংবেদনশীলতার আলোকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।