নির্বাচন এলেই একটি শ্রেণি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে: প্রধানমন্ত্রী

0
31

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে নির্বাচন এলেই একশ্রেণির লোক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। এই শ্রেণির মানুষরাই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যখন একটি গণতান্ত্রিক ধারা চলে, তখন ওই শ্রেণির মানুষের ভালো লাগে না। যখন উন্নয়নের পথে দেশ এগিয়ে যায়, তারা উন্নয়নটা চোখে দেখেন না। এমনকি বললেও তারা শোনেন না। তারা চক্ষু থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধির। ২০১৪ সালেও বিএনপি নেত্রী নির্বাচন বানচাল করে আঁকাবাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন।

মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করে সংসদ নেতা বলেন, কী পেলেন আর কী পেলেন— সে হিসাবও তিনি মেলান না; বরং দেশের জন্য কী করতে পারলেন, দেশের মানুষকে কতটুকু শান্তি, স্বস্তি ও উন্নতি দিতে পারলেন— সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে একটি শ্রেণি আছে, যারা নির্বাচন এলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন কিংবা জরুরি অবস্থা এলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে— অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল’ কিংবা জরুরি অবস্থা কখন আসবে! তখন তারা গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণির মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই, নির্বাচনে গেলে জনগণের ভোট পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে। পতাকা পাওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয় না। ইচ্ছা পূরণ করতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে। ভোট চাইতে হবে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। নির্বাচন করার যোগ্যতা তাদের নেই। বাঁকাপথে ক্ষমতায় যেতে তারা গবেষণাও করে; কিন্তু গবেষণার টাকাটা কোত্থেকে আসে, জানি না। আর তাদের গবেষণায় দেশের কোনো উন্নয়নই চোখে পড়ে না। যেখানে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, সেখানে তারা বলেন— এটা হয়নি, সেটা হয়নি। এটা করা যাবে না, সেটা করা যাবে না। আরেকটু হলে ভালো হতো।

সংসদ নেতা বলেন, একটা কথা ঠিক অনেকেই মনে করেন, তিনি (শেখ হাসিনা) থাকলে দেশে মুক্তবুদ্ধির চিন্তার সুযোগ হবে। কিন্তু এমনও এক শ্রেণি আছে, যারা ভাবে তিনি থাকলেই তাদের যত সমস্যা। বাংলাদেশের মানুষ তাকে সমর্থন করে। তিনি নিজের জীবনের পরোয়া করেন না। ভয়-ভীতি কাজ করে না। যেটা তার আদর্শ ও চিন্তা, যেটা তিনি করতে চান— সেটাই করার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি সাহস নিয়ে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্যই তাকে হত্যার জন্য বুলেট-গুলি ও গ্রেনেড হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা হয়। তবুও তিনি মারা যান না। আল্লাহ তাকে কীভাবে যেন বাঁচিয়ে রাখেন। হয়তো দেশের মানুষের জন্য কোনো ভালো করবেন বলেই তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। আর যখন কাজ শেষ হবে, চলে যাবেন। আর মরতে তো একদিন হবেই। ওটা নিয়ে তার কোনো চিন্তাই নেই। জন্মিলে তো মরতে হবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here