নির্বাচনকালীন সরকার :কী ভাবছেন ‘চাই রাজনৈতিক সমঝোতা’

0
75

untitled-7_305621ঢাকা: কোন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সুযোগ পেলেই এ ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও একধরনের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকে আগামী দিনের রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টির কথাও বলছেন।

এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কী ভাবছেন? তারা কীভাবে সমস্যার সমাধান চাইছেন? সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব।

অবশ্য সেটা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় সম্ভব, তা স্পষ্ট করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে

কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। এ কারণেই তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বেলায় রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার বিকল্প কিছুই দেখছেন না। বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বড্ড সংকটে আছে দেশ। জঙ্গিবাদ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন চরমে উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুরবস্থায়। সুশাসনের চরম ঘাটতি। এসবের নিরসনেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ দরকার।

সুজন সম্পাদক বলেছেন, গণতন্ত্র মানে জনগণের সম্মতির শাসন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের সম্মতি পাওয়া যায়। তবে ওই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে হবে। কেননা এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যদিকে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয়। এ ধরনের নির্বাচন করাটাই সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

“আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও বাংলাদেশ ‘জেনুইন’ বা সঠিক নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ”_ এ কথা জানিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সঠিক নির্বাচন মানে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকবে। আগ্রহী সবাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সর্বোপরি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্য হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাটাও নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব। আর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন রাতকে দিন, দিনকে রাত করা ছাড়া সবই করতে পারে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে। আর নির্বাচনকালীন একটি সরকার দেশ পরিচালনা করে। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকালীন সরকার কতকগুলো রুটিন দায়িত্ব পালন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিধান রয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়।

দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয়করণ চরমে পেঁৗছায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অনেক ক্ষেত্রে ভঙ্গুর। ক্ষমতাসীনদের অনুগত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রায়ই নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে না। জনগণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে দেখেছে। জাল ভোট দিতে দেখেছে। জাল ভোট দেওয়ার বেলায় সহযোগিতা করতে দেখেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে দেখেছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আবারও ক্ষমতায় গেছে। আর দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীনদের বিদায় হয়েছে। এ অভিজ্ঞতায় এটাই স্পষ্ট যে, দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বেশ খোলামেলা ভাষায় বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও আদর্শ-বিবর্জিত। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য। জনস্বার্থের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কাছে ক্ষমতাই মূল কথা। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করে না।’

তিনি আরও বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা প্রায় অনুপস্থিত। নাগরিক সমাজ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগরিক সমাজের পুরোধা হিসেবে শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশাজীবীরা গত কয়েক দশকের ফায়দাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেশিরভাগই বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নগ্ন দলবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন। তারা উচ্ছিষ্টভোগীতে পরিণত হয়েছেন। তাই শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, নাগরিক সমাজেরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বেলায় কোনো ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে দলপ্রীতির অভিযোগও আছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করে আসছেন, যা আমাদের আশাবাদী করে। তবুও নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনই আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়াও নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকার নিরপেক্ষতা প্রদর্শন না করলে, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এবং নাগরিক সমাজ সহায়ক ভূমিকা পালন না করলে, সর্বাধিক শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেটাই হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ।

নির্বাচনকালীন সরকার :কী ভাবছেন ‘চাই রাজনৈতিক সমঝোতা’ শাহেদ চৌধুরী কোন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সুযোগ পেলেই এ ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও একধরনের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকে আগামী দিনের রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টির কথাও বলছেন। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কী ভাবছেন? তারা কীভাবে সমস্যার সমাধান চাইছেন? সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব।

অবশ্য সেটা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় সম্ভব, তা স্পষ্ট করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। এ কারণেই তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বেলায় রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার বিকল্প কিছুই দেখছেন না। বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বড্ড সংকটে আছে দেশ। জঙ্গিবাদ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন চরমে উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুরবস্থায়। সুশাসনের চরম ঘাটতি। এসবের নিরসনেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ দরকার। সুজন সম্পাদক বলেছেন, গণতন্ত্র মানে জনগণের সম্মতির শাসন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের সম্মতি পাওয়া যায়। তবে ওই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে হবে। কেননা এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যদিকে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয়। এ ধরনের নির্বাচন করাটাই সাংবিধানিক অঙ্গীকার। “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও বাংলাদেশ ‘জেনুইন’ বা সঠিক নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ”_ এ কথা জানিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সঠিক নির্বাচন মানে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকবে। আগ্রহী সবাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সর্বোপরি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্য হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাটাও নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব। আর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন রাতকে দিন, দিনকে রাত করা ছাড়া সবই করতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে। আর নির্বাচনকালীন একটি সরকার দেশ পরিচালনা করে। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকালীন সরকার কতকগুলো রুটিন দায়িত্ব পালন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিধান রয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয়করণ চরমে পেঁৗছায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অনেক ক্ষেত্রে ভঙ্গুর। ক্ষমতাসীনদের অনুগত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রায়ই নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে না। জনগণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে দেখেছে। জাল ভোট দিতে দেখেছে। জাল ভোট দেওয়ার বেলায় সহযোগিতা করতে দেখেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে দেখেছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আবারও ক্ষমতায় গেছে। আর দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীনদের বিদায় হয়েছে। এ অভিজ্ঞতায় এটাই স্পষ্ট যে, দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। ড. বদিউল আলম মজুমদার বেশ খোলামেলা ভাষায় বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও আদর্শ-বিবর্জিত। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য। জনস্বার্থের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কাছে ক্ষমতাই মূল কথা। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করে না।’ তিনি আরও বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা প্রায় অনুপস্থিত। নাগরিক সমাজ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগরিক সমাজের পুরোধা হিসেবে শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশাজীবীরা গত কয়েক দশকের ফায়দাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেশিরভাগই বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নগ্ন দলবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন। তারা উচ্ছিষ্টভোগীতে পরিণত হয়েছেন।

তাই শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, নাগরিক সমাজেরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বেলায় কোনো ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে দলপ্রীতির অভিযোগও আছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করে আসছেন, যা আমাদের আশাবাদী করে। তবুও নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনই আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়াও নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকার নিরপেক্ষতা প্রদর্শন না করলে, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এবং নাগরিক সমাজ সহায়ক ভূমিকা পালন না করলে, সর্বাধিক শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেটাই হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ।কোন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সুযোগ পেলেই এ ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও একধরনের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকে আগামী দিনের রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টির কথাও বলছেন। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কী ভাবছেন? তারা কীভাবে সমস্যার সমাধান চাইছেন? সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব। অবশ্য সেটা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় সম্ভব, তা স্পষ্ট করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না।

নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। এ কারণেই তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বেলায় রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার বিকল্প কিছুই দেখছেন না। বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বড্ড সংকটে আছে দেশ। জঙ্গিবাদ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন চরমে উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুরবস্থায়। সুশাসনের চরম ঘাটতি। এসবের নিরসনেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ দরকার। সুজন সম্পাদক বলেছেন, গণতন্ত্র মানে জনগণের সম্মতির শাসন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের সম্মতি পাওয়া যায়। তবে ওই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে হবে।

কেননা এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যদিকে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয়।

এ ধরনের নির্বাচন করাটাই সাংবিধানিক অঙ্গীকার। “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও বাংলাদেশ ‘জেনুইন’ বা সঠিক নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ”_ এ কথা জানিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সঠিক নির্বাচন মানে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকবে। আগ্রহী সবাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সর্বোপরি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্য হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাটাও নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব। আর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন রাতকে দিন, দিনকে রাত করা ছাড়া সবই করতে পারে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে। আর নির্বাচনকালীন একটি সরকার দেশ পরিচালনা করে। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকালীন সরকার কতকগুলো রুটিন দায়িত্ব পালন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিধান রয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয়করণ চরমে পেঁৗছায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অনেক ক্ষেত্রে ভঙ্গুর। ক্ষমতাসীনদের অনুগত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রায়ই নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে না। জনগণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে দেখেছে। জাল ভোট দিতে দেখেছে। জাল ভোট দেওয়ার বেলায় সহযোগিতা করতে দেখেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে দেখেছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আবারও ক্ষমতায় গেছে। আর দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীনদের বিদায় হয়েছে। এ অভিজ্ঞতায় এটাই স্পষ্ট যে, দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না।

নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। ড. বদিউল আলম মজুমদার বেশ খোলামেলা ভাষায় বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও আদর্শ-বিবর্জিত। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য।

জনস্বার্থের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কাছে ক্ষমতাই মূল কথা। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করে না।’ তিনি আরও বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা প্রায় অনুপস্থিত। নাগরিক সমাজ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগরিক সমাজের পুরোধা হিসেবে শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশাজীবীরা গত কয়েক দশকের ফায়দাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেশিরভাগই বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নগ্ন দলবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন।

তারা উচ্ছিষ্টভোগীতে পরিণত হয়েছেন। তাই শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, নাগরিক সমাজেরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বেলায় কোনো ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে দলপ্রীতির অভিযোগও আছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করে আসছেন, যা আমাদের আশাবাদী করে। তবুও নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনই আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়াও নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকার নিরপেক্ষতা প্রদর্শন না করলে, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এবং নাগরিক সমাজ সহায়ক ভূমিকা পালন না করলে, সর্বাধিক শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেটাই হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ।

নির্বাচনকালীন সরকার :কী ভাবছেন ‘চাই রাজনৈতিক সমঝোতা’ শাহেদ চৌধুরী কোন সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বিশেষ করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সুযোগ পেলেই এ ব্যাপারে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও একধরনের উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকে আগামী দিনের রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টির কথাও বলছেন। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কী ভাবছেন? তারা কীভাবে সমস্যার সমাধান চাইছেন? সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব। অবশ্য সেটা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় সম্ভব, তা স্পষ্ট করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। এ কারণেই তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বেলায় রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়ার বিকল্প কিছুই দেখছেন না। বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বড্ড সংকটে আছে দেশ। জঙ্গিবাদ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন চরমে উঠেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুরবস্থায়। সুশাসনের চরম ঘাটতি। এসবের নিরসনেও রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ দরকার।

সুজন সম্পাদক বলেছেন, গণতন্ত্র মানে জনগণের সম্মতির শাসন। নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের সম্মতি পাওয়া যায়। তবে ওই

নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সর্বোপরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে হবে। কেননা এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

অন্যদিকে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায় না। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয়। এ ধরনের নির্বাচন করাটাই সাংবিধানিক অঙ্গীকার। “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও বাংলাদেশ ‘জেনুইন’ বা সঠিক নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ”_ এ কথা জানিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সঠিক নির্বাচন মানে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা থাকবে। আগ্রহী সবাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সর্বোপরি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্য হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাটাও নির্বাচন কমিশনের অন্যতম দায়িত্ব। আর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনেক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন রাতকে দিন, দিনকে রাত করা ছাড়া সবই করতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে। আর নির্বাচনকালীন একটি সরকার দেশ পরিচালনা করে। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকালীন সরকার কতকগুলো রুটিন দায়িত্ব পালন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে। বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিধান রয়েছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে এ সহায়তা দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয়করণ চরমে পেঁৗছায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অনেক ক্ষেত্রে ভঙ্গুর।

ক্ষমতাসীনদের অনুগত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রায়ই নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে না। জনগণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে দেখেছে। জাল ভোট দিতে দেখেছে। জাল ভোট দেওয়ার বেলায় সহযোগিতা করতে দেখেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে দেখেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আবারও ক্ষমতায় গেছে। আর দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার সব ক’টিতেই ক্ষমতাসীনদের বিদায় হয়েছে। এ অভিজ্ঞতায় এটাই স্পষ্ট যে, দলীয় সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করে না। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয় না। ড. বদিউল আলম মজুমদার বেশ খোলামেলা ভাষায় বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও আদর্শ-বিবর্জিত। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতায় টিকে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য। জনস্বার্থের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কাছে ক্ষমতাই মূল কথা। এ কারণে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করে না।’ তিনি আরও বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে এটা প্রায় অনুপস্থিত। নাগরিক সমাজ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগরিক সমাজের পুরোধা হিসেবে শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশাজীবীরা গত কয়েক দশকের ফায়দাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেশিরভাগই বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নগ্ন দলবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন। তারা উচ্ছিষ্টভোগীতে পরিণত হয়েছেন। তাই শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, নাগরিক সমাজেরও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বেলায় কোনো ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে দলপ্রীতির অভিযোগও আছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার করে আসছেন, যা আমাদের আশাবাদী করে। তবুও নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনই আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়াও নির্বাচনকালে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকার নিরপেক্ষতা প্রদর্শন না করলে, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এবং নাগরিক সমাজ সহায়ক ভূমিকা পালন না করলে, সর্বাধিক শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই রাজনৈতিক সমঝোতায় পেঁৗছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সেটাই হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here