নিরাপত্তার কারণে ঢাকা থেকে কার্গো ফ্লাইটের নিষেধাজ্ঞা জার্মানি

0
161

1st page lead cargoআবুল কালাম, ঢাকা থেকে:  নিরাপত্তার কারণে ঢাকা থেকে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জার্মানি? রপ্তানিকারকরা বলছেন, এই ফলে জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

জার্মানি অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানা গেছে? তাদের কথায়, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক প্রতীয়মান না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে?

দিন দুই আগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর, মঙ্গলবার, ঢাকায় বিমান বন্দরের নিরাপত্তা পরিদর্শনে বাংলাদেশে এসেছে জার্মান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল? এর আগে পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে জার্মানির রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ার লুফৎহানসার একটি ফ্লাইটে সরাসরি কার্গো পণ্য যেত জার্মানিতে? ঐই ফ্লাইটে গড়ে ৭০ থেকে ১০০ টন কার্গো করতো বাংলাদেশ? তবে লুফৎহানসা ছাড়াও অন্য দেশে রি-স্ক্যানিং করে জার্মানিতে মালামাল পরিবহন করে থাকে বড় বড় এয়ারলাইন্স? এর মধ্যে এমিরেটস, কাতার, কুয়েত, ইতিহাদ, মালয়েশিয়া, সাউদিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চায়না ও ওমান এয়ারলাইন্স অন্যতম? জার্মানি অবশ্য তৃতীয় দেশে রি-স্ক্যানিং করে পণ্য নেয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি?

বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় জার্মানিতে, যার ৯৫ ভাগই তৈরি পোশাক? এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জার্মানি? আর এই পণ্যের একটি বড় অংশই যায় আকাশপথে?

বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির (বিজিসিসিআই) সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি খারাপ খবর? ঈদের আগেই আমাদের প্রচুর পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে হবে? সাধারণত এই পণ্য বিমানে করেই পাঠানো হয়? ফলে শেষ পর্যন্ত এই পণ্য পাঠানো যাবে কিনা তা অনিশ্চিত? তাছাড়া রি-স্ক্যানিং করে পাঠালে, খরচ বেড়ে যাবে?

তাঁর কথায়, “ব্রেক্সিট-এর কারণে আমরা এরইমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছি? পণ্য রপ্তানি করে পাউন্ডে এখন শতকরা ১২ টাকা কম পাচ্ছি আমরা? এখন জার্মানির সঙ্গে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় আরো নতুন ক্ষতি যোগ হলো?”

বংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় গন্তব্য জার্মানি? বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, “জার্মানি নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে? কিন্তু আমাদের তৈরি পোশাক খাত এই সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? তাই আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছি?

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর লুফৎহানসার ফ্লাইটটি নির্ধারিত ৮০ টন পণ্য, যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক, শাহজালাল বিমানবন্দরে ফেলে রেখেই দেশে ফিরে গেছে?

বিজিএমইএ বলছে, তৈরি পোশাক খাতের একটা বড় অংশ জার্মানিতে রপ্তানি করা হয় জিরো ট্যারিফে? এর সবটাই যায় আকাশপথে? বর্তমানে জরুরিভিত্তিতে গার্মেন্ট পণ্যের নমুনাও সরাসরি আকাশপথে জার্মানিতে পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল
এদিকে লুফৎহানসার মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্গো সরাসরি বহনা করা হতো, তা থেকে মাসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতো বিমান বাংলাদেশ? নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে তারা?

জার্মানি অপ্রতুল নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কথা বলে বিমানে কার্গো নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে, বিমানে কার্গো রপ্তানি টার্মিনালটি বহিরাগত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে?
এ সব জনবল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ?

অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পর রেডলাইন নামে একটি নিরাপত্তা সংস্থাকে বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে দায়িত্ব দেয়া হয়? কিন্তু তাদের কাজ আশানুরূপ নয় বলে জানা গেছে? তাই ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাজ্যের রেডলাইন কোম্পানির নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে?

সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা আশা করি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ঢাকায় জার্মান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ মেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে? তাহলে সংকট কেটে যাবে?

সিদ্দিকুর রহমানের কথায়, “আশা করি এই নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই উঠে যাবে? আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলছি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে?” তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি?
প্রসঙ্গত, এটাই অবশ্য প্রথম নয়, এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল?
নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ থেকে বিমানে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে: জার্মান রাষ্ট্রদূত

সম্পূর্ণ নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমানে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে জার্মানি। এই ব্যবস্থা সাময়িক। এতে বাংলাদেশের কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ পণ্য জার্মানে জাহাজে রপ্তানি হয়।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানি রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ এ কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বের হয়ে গেলে ইইউভূক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রীর সাথে এ সাক্ষাৎকালে ঢাকাস্থ ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মিসিস সোফি উবার্ট ও কেএফডব্লিউর পরিচালক ডেভিড কুঞ্জ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি বেক্সিটের প্রভাব পড়বে না বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। ইইউর দেশগুলোর সাথে আগের মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের সাথে সমঝোতা করে নেবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সাথে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বেক্সিট, কার্গো বিমানে পণ্য রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং তৈরী পোশাক শিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার উন্নয়নে সহায়তা।
ড. প্রিঞ্জ বলেন, জার্মানির সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের মতোই অটুট থাকবে। বেক্সিটের কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে কোনো বাধার সৃষ্টি হবে বলে আমরা মনে করি না।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এর আগে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ থেকে ও কার্গো বিমানে পণ্য রপ্তানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত ২৪ জুন থেকে একই কারণ দেখিয়ে জার্মানিও বাংলাদেশের কার্গো বিমানে পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্পূর্ণ নিরাপত্তার কারণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। কারণ বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে বেশির ভাগ পোশাক রপ্তানি হয় জাহাজে। কাজেই কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের অনেক কারখানা অর্থের অভাবে উন্নয়ন করতে পারছে না। ওই সব কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে ৬০ মিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা নিয়ে কথা হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে ফ্রান্স এবং বাকি ১০ মিলিয়ন ডলার জার্মানি ও জিআইজেড দেবে।

কবে নাগাদ এ ঋণসহায়তা দেয়া হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার যখন চাইবে তখনই এ ঋণসহায়তা দেয়া হবে। পরে অর্থমন্ত্রীর সাথে ডেনমার্কের বিদ