নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের গোলটেবিল বৈঠক, সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসেরকে খোলা চিঠি

0
224

abu nasarweekly Janmobhumi-01-2017 (1)-48রতন তালুকদার:  বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠক সময়পোযোগী  এবং প্রবাসীদের স্বার্থ  সংশ্লিষ্ট  বিষয়। নিউইয়র্ক  বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহ্বয়াক সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান ও সদস্য সচিব  শিবলী চৌধুরী কায়েসের নেতৃত্বে “বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ও প্রবাসীদের অধিকার” শীর্ষক এক গোলবৈঠকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্র-পত্রিকায় সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতাদের নিয়ে একটি সম্মিলিত মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা হয়।

এই সুদী সমাবেশ  প্রবাসীদের  নাগরিক অধিকার ও স্বার্থ যেন বিপন্ন  না হয় সেই মহতী উদ্দেশ্য নিয়েই  নিউইয়র্ক  বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আয়োজন। স্থানীয় সাংবাদিক ,  আইনজীবী ও কমিউনিটি  নেতাদের বক্তব্য গোলটেবিল বৈঠকের মর্যদা বহুলাংশে  শ্রীবৃদ্ধি করলেও সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসেরের অপ্রাসঙ্গিক ও উগ্র বক্তব্যের কারণে উপস্থিত  সুধীমহল বিব্রত বোধ করে। অথচ এই সুন্দর সুদী  সমাবেশ ছিলো সরকারের কালো আইনের বিরুদ্বে এবং প্রবাসীদের স্বার্থে একটি অসাধারন বৈঠক।

নিউইয়র্ক প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের একজন জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি। সাংবাদিক মহলে তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।  জ্ঞান,মেধা ও মননশীলতায় মঈনুদ্দীন নাসেরের তুলনা হয় না। তিনি একজন পন্ডিত ব্যক্তিও বটে। মাওবাদী গনচীনের কমিউনিস্ট আর্দশে বিশ্বাসী (ভেতরে ভেতরে জামাত-বিএনপি সমর্থক বলে অনেকের ধারনা ! যদিও আমি একথা  বিশ্বাস করি না ) একজন সাংবাদিক হিসেবেই তিনি বহুল পরিচিত। তার আরও একটি পরিচয় তিনি চিরাচরিত ভারত বিরোধী।  আমি বলবো ভারত নিয়ে নাসের ভাইয়ের এলাৰ্জি নতুন  নয়।

এই প্রবাসে নাসের ভাইকে আমি যতদিন চিনি, যতই দেখি তার প্রতি আমার আগ্রহ বাড়ে। ভারত বিরোধিতার নামে তার বক্তব্যে অনেক সত্যতিথ্যা তথ্য পাওয়া যায়। তবে নাসের ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ তার ভারত বিরোধিতার প্রশ্নে রাখডাক নেই। অন্তত ভারত বিরোধিতার ক্ষেত্রে তার কোন হিপোক্রেসি দেখি না। কারণে-অকারণে, প্রসঙ্গে অথবা অপ্রাসঙ্গিক হলেও চেখে বুঝে তিনি ভারতের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেন। কোন অনুষ্ঠানে ভারত প্রসঙ্গে এলে নাসের ভাইয়ের জন্য যুথসই হয়, তিনি নড়েচরে বসেন! তারপর প্রান উজার করে মনের মাধুরী মিশিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে পারেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে নাসের ভাইয়ের বক্তব্য খুব উপবোগ করি। মত পথ ও আর্দশের মাঝে বিস্তর ফারাক থাকার পরও নাসের ভাইকে আমি একজন প্রিয় মানুষ ভাবি, বন্ধু ভাবি। হোক ভাসানী, হোক রবীন্দ্র-নজরুল, হোক বিডিআর হত্যা, হোক জামাত-বিএনপি বা বাম দলের আলোচনা নাসের ভাই থাকলে সেখানে ভারতের শ্রাদ্ধ হবেই এটা নিশ্চিতা !

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের গোল টেবিল বৈঠকে অকারণে ভারত প্রসঙ্গ না আনলে সম্ভবত মহাভরাত অশুদ্ধ হতো না। বাংলাদেশ সরকার তার দেশের সংবিধানে নাগরিকত্ব আইন সংশোদন করবে তাতেও ভারতের দোষ! মনে হয় একটু বেশী হয়ে গেলো, এটা কি ধান ভানতে শিবের গীত নয় নাসের ভাই?

আপনি পন্ডিত ব্যাক্তি, বিভিন্ন দেশের সংবিধান আইন-কানুন আপনার নখদর্পণে থাকাই স্বাভাবিক। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের গোল টেবিল বৈঠকে আপনার বক্তব্যে আপনি বলেছিলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ধর্মনিরপেক্ষ ভারত সংবিধানে এমন আনি করেছিল যা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান শিখ জৈন ধর্মের মানুষ ভারত এল নাগতিত্ব পাবে। আপনার অভিযোগ কেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারতো তখন সংবিধানে মুসলিমদের কথা সংযোজন করা হলো না? ভারতের সংবিধান ও তৎকালীন রাজনীতির প্রেক্ষাপট জেনেও এই প্রশ্নের উত্তর আপনার মগজে কেন নেই এআি কতা ভেবে আমি নেজেই লজ্জ্বিত ও বিস্মত। আপনার মেধা, মননশলিতা ও পান্ডিত্য নিয়ে আমি বিব্রত বোধ করছি।

আমি বাধ্য হয়ে দু:সাহস করছি এবং আপনার অবগতির জন্য ভূল ব্যাখ্যার জবাব দিতে চাই। মইনুদ্দীন নাসের আপনার নিশ্চয়ই অজানা নয় (?)  ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়েছিলো জিন্নার কাছে। ভারত মূলত ভাগ হয় হিন্দু মুসলমানদের আলাদা আবাসভূমি স্বপ্ন নিয়ে। ভারতীয় মুসলমান নেতারাই ভারত ভাগ করে পাকিস্তান চেয়েছিলো, ভারতীয় হিন্দু নেতারা চায়নি।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলেও মুসলমানদের নিজস্ব আবাসভীমি অর্থ্যাৎ পাকিস্থান দাবী উঠে আরও আগে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবে। আমি জানি, এসব ইতিহাস আপনাকে আমার শেখাতে হবে না। সম্ভবত: আপনি জেগে ঘুমান বলেই আপনাকে মাঝে শাঝে জাগানো যায় না। আপনি ঠিকই বলেছেন ভারতের সংবিধানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান শিখ জৈনদের পাশাপাশি মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রাখা হয়নি কেন। প্রশ্ন হলো কেন রাখা হবে? আপনি মুসলিম বা ইসলামিক রাষ্ট্র বানিয়ে কেটে পড়লেন। আবার মোহভঙ্গ হয়ে ফিরে এল সয়বিধানে মুসলমানদের ভারতে নাগরিকত্ব দিতে হবে কেন?

এটা তো বোকা, পাগল বা শিশুও জানে ভারতীয় হিন্দুরা মুসলমানদেরকে আলাদা রাষ্ট্র বানাতে বাধ্য করেনি বরং ভারতে মুসলামান ধোয়া তোলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে আপনাদের সাধের পাকিস্তান হওয়ার পরও ভারত ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি মেনেই চলছে। হোক কয়গ্রেস, হোক সাম্প্রদায়িক বিজেপি ভারত ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে নির্বাসন দেয়নি। ভারতে কংগ্রেস ও সাম্প্রদায়িক বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষার পথ হারায়নি এই ধর্মনিরপেক্ষার নীতিই বহুজাতিক বহুবর্ণের ও বহু ভাষায় ভারতকে একাসূত্রে গেথেঁ রেখেছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিসস্তান থেকে আগাত হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান জৈন শিখদের জন্য ভারতে নাগরিকত্বের রাস্তাটি খোলা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশে ধর্মীয় পরিচয়ের কারনে কোন সম্প্রদায় নিপীড়িত ও বৈষম্যের শিকার হলে ভারত এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। একারণেই ভারতীয় সংবিধানে প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জবিনের নিরাপত্তার জন্য গণতান্দ্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারত এগিয়ে

মঈনুদ্দীন নাসের আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে, শুধু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান নয় এই বিশাল ভারত সকল ধর্মের  মানুষের জন্য এক অনন্য পৃথিবী। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের  জন্য কোন ধর্মীয় পরিচয়ের প্রজ্যন হয় না। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে কোন মুসলমান জান বাচঁতে ভারতে এলে ভারত তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করে ।  শুধু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান শিখ নয় এই ভারতে হাজার হাজার মুসলমান পাকিস্তান, আফঘানিস্তান, ইরান, ইরাক ও বাংলাদেশ থেকে এসে আশ্রয় পেয়েছে । ১৯৮০ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবে রেজা শাহ পাহলভী রজত্বের পতন হলে ইরানের অনেক মুসলমান ও ইহুদী ভারতে আশ্রয় নেয় । এধরনের ইতিহাস অনেক । বাংলাদেশের তসলিমা নাসরিন সহ মুক্তমনা যাঁদেরকে আপনারা তাঁড়িয়ে দিয়েছে তারা এখন ভারতে । মনে রাখবেন (আমি বিশ্বাস করি ) আপনি মঈনুদ্দীন নাসের যদি পৃথিবীর কোন প্রান্তে স্থান না পান তবে নিশ্চিত ধর্মনিরপক্ষ ভারতে আশ্রয় পাবেন । বর্তমান ভারতে ২০ কোটীর উপর ধর্মপ্রান মুসলমানের বসবাস । আরও জানিয়ে রাখি আগামী এক দশকের মাঝেই ইন্দোনেশিয়াকে ডিঈিয়ে ভারতেই হবে পৃথিবীর এক নম্বর মুসলিম দেশ ।

আপনার মতো একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হতে পারেন ভারত বিরোধী তবে ভুল তথ্য ও গোঁজামিল দিয়ে মানুষকে