‘নালিশ করে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না’

0
88
mujibnagar_day_samakal_285747ঢাকা: বিএনপিকে ‘বাংলাদেশে নালিশ পার্টি’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নালিশ করে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না।

মেহেরপুরের মুজিবনগরে সোমবার মুজিবনগর দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সংবিধানে শূন্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করেছিল। আবারও বাংলাদেশ নালিশ পার্টি নির্বাচনে না গিয়ে নানা রকম নালিশ করে বেড়াচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নালিশ করে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ পূরণ হবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের পাশে থাকে, উন্নয়ন করে। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। বিএনপি নেত্রীকে জনগণের কাছেই নালিশ করতে হবে। তবে তিনি যতই নালিশ করুন না কেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই ২০১৯ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীকে জয়যুক্ত করবে।’
বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৫৯৬ জনের বিশাল কমিটি করেছে। আন্দোলনের ডাক দিয়ে সকলেই ঘরে বসে থাকে। ভয়ে বাইরে বের হতে পারে না। ৫৯৬ জনের ৯৬ জনও বাইরে বের হয় না। এখন আবার তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে— ভারত কেন আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কেন সম্মান দেয়, দেশের মানুষকে কেন সম্মান দেয়। আসলে তিস্তার পানি নিয়ে নয়, তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে কেন সম্মান দেখালেন।’
সকালে মুজিবনগর আম্রকাননে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা- সমকাল

তিনি বলেন, ‘গঙ্গার পানি চুক্তি আওয়ামী লীগ করেছে, তিস্তার পানি চুক্তিও আওয়ামী লীগই করবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাহাত্তরের সংবিধানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। মুজিবনগরের ওপারে এক ঐতিহাসিক স্থান পলাশীর আম্রকানন। এপারে আরেক আম্রকানন বৈদ্যনাথতলা। পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে গেলেও আরেক আম্রকানন এই মুজিবনগরে সেই সূর্য আবার উদয় হয়েছে। আর সেই স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। সেই সময়কার অনেক মানুষ এখানে আজ উপস্থিত আছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বেগম জিয়া আপনি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হবে না। দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। সরকার কঠোর তা হস্তে দমন করছে। দেশের মানুষও জঙ্গি দমনে সহায়তা করছে। ৯৬/৯৭ সালে আমরা দেশের সকল সন্ত্রাসীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছিলাম। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছি। আর কোনো সন্ত্রাসবাদ দেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করে আবারও ক্ষমতায় আসবে।’
সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে— পুনরায় এ কথা উল্লেখ করে তিনি সেই নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর আম্রকাননে গিয়ে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সকাল পৌনে ১১টায় শেখ হাসিনা মঞ্চের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ওবায়দুল কাদের। এরপর পুলিশ, বিজিবি, আনসার, স্কাউট, গার্লস গাইড ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে।
কুচকাওয়াজ শেষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনসহ আরও কেন্ত্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here