নাটক থেকে আসা সিনেমার নায়িকারা কেমন আছেন

0
94

টিভি পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজ ক্যারিয়ার শুরু। সেই সুবাদে ছিলেন নাটকের অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপন আর নাটকে বেশ কয়েক বছর ছিলেন সরব। এরপর এলেন সিনেমায়। কিন্তু পর্দার রেস তো অতটা সহজ নয়। এখানে বেশ সংগ্রাম করে ক্যারিয়ার গড়ে নিতে হয়। কারণ দর্শকরা গাঁটের পয়সা খরচ করে টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখেন। তাদের মন ভোলানো এত সহজ কাজ নয়! টিভি পর্দা থেকে উঠে আসা নায়িকারা বড় পর্দার রেসে কেমন তা নিয়েই এ আয়োজন।

টিভি পর্দার কাজ করা অনেক অভিনয় শিল্পীরই বড় পর্দায় কাজ করার একটা সুপ্ত বাসনা থাকে। অনেকের এ বাসনা পূরণও হয়। কেউ আবার সুযোগ পেলেও চিত্রনায়িকা হয়ে ওঠার সৌভাগ্য ললাটে জোটে না। কারও কাছে একেবারেই অধরা থাকে এটি। এখন নাটকের অনেক অভিনেত্রীই রয়েছেন যারা চিত্রনায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নাটক, সিনেমা- দুই মাধ্যমে ব্যস্ততার মধ্যেই কাটছে তাদের সময়। তাদের পরিচয় কখনও টিভি অভিনেত্রী, আবার কখনও সিনেমার নায়িকা। তবে হিসাবের খাতা উল্টালে এর মধ্যে প্রায়ই সবাই চেষ্টার মধ্যেই আছেন। সাফল্য আসবে এ আশায় এখনও অনেকে সিনেমায় অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বপ্ন দেখছেন হয়তো তার ঝুলিতেও একদিন সাফল্য ধরা দেবে।

টিভি পর্দায় কাজের শুরু এমন অভিনেত্রীদের তালিকা করলে প্রথমেই উঠে আসবে জয়া আহসানের নাম। ক্যারিয়ার নাটক দিয়ে শুরু হলেও জয়ার সিনেমায় অভিষেক হয় ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’-এর মাধ্যমে। পরে দীর্ঘ ৬ বছর পর ‘ডুবসাঁতার’ সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০১১ সালে ‘ফিরে এসো বেহুলা’ এবং ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। তার ঝুলিতে আরও রয়েছে ‘চোরাবালি’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ওয়ান ও টু’, ‘খাঁচা’। বর্তমানে অভিনয় করছেন ‘দেবী’ ও ‘বিউটি সার্কাস’ নামের দুটি সিনেমায়। নাটক থেকে সিনেমায় এসে জয়া সফল। এখন তো তিনি বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই সমানতালে ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছেন। নাটকে এখন আর তাকে দেখা যায় না বললেই চলে। পুরোপুরি কলকাতার নায়িকাও বলছেন অনেকে। কারণ কলকাতাতেই এখন তার সাফল্য বেশি। ক’দিন আগে বাংলাদেশের প্রথম কোনো অভিনেত্রী হিসেবে কলকাতায় ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন। সেটি জয়ার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে।

নাটকের আরেক অভিনেত্রী সোহানা সাবা। তবে অভিনেত্রী পরিচয়ে পরিচিত হলেও মিডিয়াতে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল নাচের মাধ্যমে। পরে নাটকে অভিনয় শুরু করেন। এরপর অফট্র্যাকের সিনেমায় অভিনয় করে চিত্রনায়িকা পরিচয় পেলেও দর্শকদের কাছে যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করে নায়িকারূপে পরিচিত হতে হয়, সেটি ছিল না সাবার ক্ষেত্রে। এবার সে পরিচয়ও পাচ্ছেন তিনি। অফট্র্যাকের বাইরে এবার বাণিজ্যিক সিনেমার নায়িকা হিসেবেও কাজ করছেন। অভিনয় করছেন ‘আব্বাস’ নামের একটি সিনেমায়। এতে চিত্রনায়ক নিরবের প্রেমিকা হিসেবে অভিনয় করছেন তিনি। অফট্র্যাকের সিনেমা দিয়ে চিত্রনায়িকা হিসেবে পরিচিত হলেও বাণিজ্যিক সফলতাই বলে দেবে তিনি এ ধারার সিনেমার জন্য কতটা ফিট।

গত বছরের শেষ দিকে মুক্তি পায় আলোচিত-সমালোচিত সিনেমা ‘ডুব’। এ ছবিতে বলিউড তারকা ইরফান খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের নুসরাত ইমরোজ তিশা। এর পরই মুক্তি পায় তার অভিনীত তৌকীর আহমেদ পরিচালিত সিনেমা ‘হালদা’। তিশাও কিন্তু টিভি তারকা হিসেবেই দর্শকদের কাছে পরিচিত। টিভিতে তার শুরুটা গান দিয়ে। এরপর নামেন অভিনয়ে। ১৯৯৭ সালে অনন্ত হীরার ‘সাতপেড়ে কাব্য’ নামে একটি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে শখের বশে অভিনয়ের মাধ্যমে এ জগতে পা রাখেন তিশা। ২০০৩ সাল থেকে অভিনয় ও মডেলিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ‘এঞ্জেল ফোর’ নামের একটি ব্যান্ড দলও গঠন করেছিলেন। এখন তো সিনেমা নিয়েই ব্যস্ততা যাচ্ছে তার। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় আগেই অভিনয় করেছেন তিশা। কিন্তু সফলতার পাল্লা খুব একটা ভারী নয়। দর্শকদের কাছে অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসা পেলেও নায়িকা হিসেবে এখনও নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি তিনি।