নতুন শক্তি নতুন স্বপ্ন

0
20

স্পোর্টস ডেস্ক: জয়ের পর নিজ দেশের একটি পতাকা নিয়ে মাঠে ঢুকলেন সিমে ভারসালকো। মাঠের একপ্রান্তে পতাকাটি বিছিয়ে দিলেন। এরপর সেই পতাকার ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন, চোখ দুটো বন্ধ করে। ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডারের এভাবে শুয়ে থাকার ছবিটি তুলে রাখতে ভুল করেননি ক্যামেরাম্যানরা। সে ছবিটিই এরপর টুইটারে শেয়ার করেছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন। ক্যাপশনে লেখা- ‘এই মাত্র আমি আমার জীবনের সেরা স্বপ্নটি দেখলাম, বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া!’

স্বপ্নই বটে! প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাটা তো যে কোনো অর্থেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। একই সঙ্গে চমকও।

বিশ্বকাপ ফাইনাল আর চমক- দুটো শব্দ আলাদা হয়ে ছিল বেশ লম্বা একটা সময় ধরেই। সেই ১৯৬২ সালে চেকস্লোভাকিয়ার পর হিসাবের বাইরে থাকা কোনো দলই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফাইনালে খেলতে পারেনি। ৫৬ বছর পর বিশ্বকাপে সেই চমকটা ফিরিয়ে আনল দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে তারা। ২০০২ থেকে ২০১৪- বিশ্বকাপের সর্বশেষ চার আসরের তিনটিতেই যারা বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে, ২০১০ বিশ্বকাপে খেলাই হয়নি যাদের, সে তারাই বিশ্বকাপে দেখাল নিজেদের উত্থান।

গত ৪০ বছরের মধ্যে মাত্র তৃতীয় নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। আগের দুটো দলের নাম থেকে চাইলেই অনুপ্রেরণা নিতে পারে ক্রোয়াটরা। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০১০ সালে স্পেন নতুন দল হিসেবে খেলেছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই দুই আসরের শিরোপাও জিতেছিল তারাই। ক্রোয়াটরা কি সেই ধারা ধরে রাখতে পারবে এবার? লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে কি উঁচিয়ে ধরতে পারবে অনেক আকাঙ্ক্ষিত ওই স্বর্ণালি ট্রফিটি?

সেটার উত্তর জানা যাবে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরই। তবে এই ক্রোয়েশিয়াকে হারানো যে সহজ হবে না, সেটার প্রমাণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নকআউট পর্বে তাদের ম্যাচগুলোতেই। শেষ ষোলোর ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের রাশিয়ার বিপক্ষে, দুটি ম্যাচেই টাইব্রেকার থেকে জিতেছিলেন মডরিচ-রাকিটিচ-মানজুকিচরা। আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা জিতেছে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিয়েই। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরা, অতঃপর অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া গোলে ফাইনাল নিশ্চিত করা- জল্গাতকো দালিচের দল বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা হারার আগে হারে না। একের পর এক ম্যাচে ১২০ মিনিটের পুরোটা সময় একই ছন্দ নিয়ে খেলা এবং স্নায়ুর ওপর দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করা এই ক্রোয়েশিয়াকে সামলাতে ফ্রান্সেরও যে বেগ পেতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ক্রোয়েশিয়া। এতদিন পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পরই তাই দলের খেলোয়াড়দের নির্ভার থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন কোচ দালিচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে নিজেই জানালেন সেটা, ‘সেমিফাইনালের আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম যে, তারা যেন পুরোপুরি নির্ভার থাকে, যেন মাথা গরম না করে। আমি তাদের বলেছিলাম, সেমিফাইনালকে উপভোগ করতে এবং নিজেদের অর্জনে গর্বিত হতে। ছেলেরা সেটাই করেছে। তারা মাঠে ফুটবলটা উপভোগ করেছে এবং আমাদের গর্বের আরও বড় উপলক্ষ এনে দিয়েছে।’

ক্রোয়েশিয়ার গর্বের উপলক্ষ হতে পারে আরও অনেক বড়। দেশকে সে উপলক্ষ উপহার দিতেই ফাইনালে নামবেন দালিচের শিষ্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here