নকশা ও নির্মাণ লাইসেন্স পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে বাংলাদেশ

0
91

নিউজ ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা ও নির্মাণ কাজের লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজ শুরুতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল পাশাপাশি বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হল বাংলাদেশ।

৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্বের অর্থাৎ পারমাণবিক চুলি­ বসানোর কাজের (ফাস্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি) উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) চেয়ারম্যান ড. দিলীপ কুমার সাহার কাছে এ নকশা ও নির্মাণ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন বিএইআরএ’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সম্মতি পাওয়ার পর এ লাইসেন্স দেয়া হয়। এর আগে গত বছরের জুনে কেন্দ্রটির নির্মাণস্থল উপযোগী ও নিরাপদ বলে সাইট লাইসেন্স  দেয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপার নয়, জাতীয় আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে এ প্রকল্প। স্বাধীনতার পর এমন কাজ আর হয়নি। নকশা ও নির্মাণ লাইসেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হল।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দ্রুততম সময়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে এ প্রকল্পটি একটি বড় উদাহরণ। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চেহারা পাল্টে দেবে যে কয়েকটি প্রকল্প এটি তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি।

২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুই ইউনিটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর্থিক বিবেচনায় এটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে ঋণ হিসেবে রাশিয়া ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা দেবে বলে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার রোসাটম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, রোসাটমের মহাপরিচালক নিকোলাই স্পাস্কি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর ও নিউক্লিয়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালক ড. সত্যজিৎ ঘোষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here