নওয়াজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, তদন্তের নির্দেশ

0
128

nawaz_sharif_and_shahbaz_sharif_45216_1492682960আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পানামা পেপার্স কেলেংকারির ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অপসারণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

এ কারণে এখনই তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত না দিয়ে তিনি ও তার সন্তানদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য যৌথ কমিশন (জেআইটি) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ রায়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ও তার পরিবার হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন। তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) নেতবৃন্দ সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘বিজয়’ ঘোষণা দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

পানামা কেলেংকারির জন্য অভিযুক্তরা হলেন- প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, তার কন্যা মরিয়ম নওয়াজ, ছেলে হাসান নওয়াজ ও হুসাইন নওয়াজ, মরিয়মের স্বামী ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ সফদার এবং অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৩-২ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেয়া রায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য জেআইটি গঠনের নির্দেশ দেন।

বেঞ্চের বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা, বিচারপতি গুলজার আহমেদ, বিচারপতি এজাজ আফজাল খান, বিচারপতি আজমত সাঈদ এবং বিচারপতি ইজাজুল আহসান।

আদালত জেআইটি গঠনের জন্য সাত দিনের সময়ও বেধে দিয়েছে। তদন্ত দলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ), জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো (এনএবি), স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, মিলিটারি ইন্টিলিজেন্স কর্মকর্তারা থাকবেন। এতে নেতৃত্ব দেবেন এফআইএর মহাপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মর্কর্তা।

জেআইটিকে প্রতি সপ্তাহে তদন্তের অগ্রগতি অবহিত করেত এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট ভবনের এক নম্বর কক্ষে চার শতাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে ৫৪০ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি খোসা। এ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এজাজ আফজাল।

পাঁচ বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি খোসা ও গুলজার রায়ে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

বিচারপতিদ্বয় নওয়াজকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে বলেন তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।

তবে অপর তিন বিচারপতি এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে শুধু জেআইটি গঠনের পক্ষে রায় দেন।

২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব জার্নালিস্টস পানামা পেপার্স ফাঁস করে।

এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, ধনকুবের ও সুপার স্টারদের কর ফাঁকির প্রমাণ বের হয়ে আসে।

পানামা পেপার্সে দেখা যায়, নওয়াজের তিন সন্তান মরিয়ম, হাসান ও হুসাইসের নামে আটটি অফশোর কোম্পানি রয়েছে।

এরপর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে পাকিস্তানজুড়ে বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ-সমাবেশ করে এবং নওয়াজের পদত্যাগ দাবি করে।

পরে বিরোধীদলগুলোর দাবির মুখে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

এক পর্যায়ে ঘটনার বিচার দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ, জামায়াতে ইসলামী, ওয়াতান পার্টি এবং অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ।

ওই মামলারই রায় ঘোষণার দিন ছিল বৃহস্পতিবার। একে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান জুড়েই নওয়াজের অপসারণ নিয়ে প্রচুর জল্পনা চলছিল। এমনকি দেশটির শেয়ার বাজারেও ব্যাপক ধস নামে।

আজ রায়ের দিন রাজধানী ইসলামাবাদে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ১৫০০ কমান্ডো এবং দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সাংবাদিকদের জানান, ৩-২ বিভক্ত রায় ঘোষণা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে তার চিঠিতে ঘটনা তদন্তের জন্য যে কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন, আদালতও তাই বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের তদন্তের জন্য প্রস্তুত আছি। বিরোধী দল সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতির যেসব তথ্যপ্রমাণ দিয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলে আজ তা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সফল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here