ধনী তোষণে ট্রাম্পের কর সংস্কার বিল পাস

0
62

ধনীরা দেড় লাখ কোটি ডলারের কর সুবিধা পাবে * এটা মার্কিনিদের সর্বস্ব লুটে নেয়ার বিল : ন্যান্সি পেলোসি * চিন্তিত ইউরোপীয় অর্থমন্ত্রীরা

মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ধরনের কর সংস্কার বিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর প্রথায় গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রদবদল এটা।

বুধবার সকালে মার্কিন সিনেটে ৫১ বনাম ৪৮ ভোটে বিলটি গৃহীত হয়। এর আগে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ খুব সহজেই বিলটি অনুমোদন করে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। বিলটি ওখানেই চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে? কর সংস্কার সংক্রান্ত বিলটি যদি সত্যিই চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়, তাহলে সেটা হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত ও প্রণীত প্রথম বড় আইন। একইসঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম কোনো বড় জয়।

ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, সিনেটে পার্টি লাইন অনুযায়ী ভোটে সব ডেমোক্রেট সদস্যই বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। রিপাবলিকান সিনেটরদের এই পদক্ষেপ ডেমোক্রেটদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডেমোক্রেটরা বলেছেন, নতুন এই আইনটির ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর খরচে ধনীরা লাভবান হবে। কেননা আইনটির আওতায় ধনীদের দেড় লাখ কোটি ডলারের আয়কর কমে যাবে। সংখ্যালঘু ডেমোক্রেটদের নেতা ন্যান্সি পেলোসি বিলটিকে আমেরিকারে সর্বস্ব লুটে নেয়া এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পাইকারি ডাকাতি বলে অভিহিত করেছেন।

ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, ট্রাম্পের কর সংস্কারের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট ট্যাক্স এক ধাক্কায় ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশ দাঁড়াবে। এছাড়া মার্কিন কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে তাদের জামানত দেশে ফিরিয়ে আনলে সেই কর ১৫.৫ শতাংশে নেমে যাবে। ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষেরা বছরে ৬০ ডলার কম আয়কর দেয়ার আশা করতে পারেন।

অপরদিকে বছরে সাড়ে সাত লাখ ডলারের বেশি আয়ের ব্যক্তিবর্গের আয়কর প্রায় ৫১,০০০ ডলার কমে যাবে। মোট কথা, কর ব্যবস্থায় এই রদবদলের ফলে বিত্তশালীরাই বেশি সুবিধা পাবে। ট্রাম্পের এই বিল যে সাধারণ মার্কিন জনগণের অত্যন্ত অপ্রিয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই?

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তার মধ্যপ্রাচ্য যাত্রা স্থগিত রেখে সিনেটে সভাপতিত্ব করেন। বিলের পক্ষে ও বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে যাতে তিনি তার নিজের ভোটটি দিয়ে বিলটিকে জেতাতে পারেন।

বিল পাস হওয়ার পরে পেন্সই সরব হর্ষধ্বনির মধ্যে ঘোষণা করেন : ‘কর ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান আইনটি পাস হয়েছে। এর একটু পরেই ট্রাম্প টুইট করে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদ্য ইতিহাসের বৃহত্তম কর ছাঁটাই ও সংস্কার বিলটি পাস করেছে।’

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের রিপাবলিকানরা আগের দিন মঙ্গলবারেই ২২৭ বনাম ২০৩ ভোটে কর সংস্কার বিলটি পাস করেন। কোনো ডেমোক্রেটই বিলটির পক্ষে ভোট দেননি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই কর হ্রাস কার্যকর হবে। তবে বড় বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স স্থায়ীভাবে কমলেও ব্যক্তিবর্গের জন্য কর হ্রাসের মেয়াদ ২০২৬ সাল অবধি। সিনেটের নিয়মাবলীতে এমনটাই নির্দিষ্ট করা আছে।
গত সপ্তাহে ইউরোপের পাঁচটি বৃহত্তম অর্থনীতি, অর্থাৎ জার্মান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ইতালির অর্থমন্ত্রীরা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিফেন মেনুচিনকে একটি উদ্বেগপূর্ণ পত্র লেখেন এবং মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটের সব উচ্চপদস্থ রিপাবলিকান রাজনীতিকদের কাছে তার কপি পাঠান।

পত্রে তাদের বক্তব্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর হ্রাস সংক্রান্ত বিলটি যদি তার বর্তমান খসড়ায় অনুমোদিত হয়, তাহলে তা বড় বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায়ের বিশ্বব্যাপী প্রথা ভঙ্গ করবে। এই বিল ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিবিধ কর আদায় সংক্রান্ত চুক্তিসমূহের বিরুদ্ধে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টির ঝুঁকি থাকবে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here