দেশে কর্মসংস্থান নেই : রওশন এরশাদ

0
107

146511795314জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে রাস্তায় মেরে ফেলল। এছাড়া শিশু হত্যা, নারী হত্যা, গুম প্রতিনিয়ত চলছে। কর্মসংস্থানের অভাবেই এসব ঘটছে। কর্মসংস্থান নেই বলে মানুষ হতাশ হয়ে এসব করছে। সেগুলো বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

তিনি বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, তবে সামাজিক অস্থিরতা আছে। পুলিশ দিয়ে সেই অস্থিরতা বন্ধ করা যাবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে এগুলো বন্ধের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা দলমত নির্বিশেষ একসাথে বসে আলোচনা করে এগুলো বন্ধ করার জন্য উপায় খুজতে পারি। সেজন্য বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলছে তা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা, কর্মসংস্থান তৈরী, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়গুলো বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আগামী অর্থবছরের বাজেট তো হবে আরো বিশাল। এ উচ্চাভিলাসী বাজেটের স্বপ্ন তিনি দেখলেন কিভাবে? অর্থমন্ত্রী স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, আমরা দেখছি। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থাকবে, তা বাস্তব হবে না। ঘাটতি শুধু বাজেটেই নয়, ঘাটতি শুধু আর্তসামাজিক খাতে, মূল্যবোধের খাতে, রাজনৈতিক খাতে ঘাটতি রয়েছে। চারিদিকে শুধু ঘাটতি আর ঘাটতি।

শেয়ারবাজর একটি দেশের অর্থনীতির ব্যারোমিটার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করে ব্যবসা করার সুযোগ পায়। পুঁজিবাজারে যেই ধ্বস নেমেছিল, তা এখনো ঠিক হয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন- ৫৬ টি ব্যাংকে খেলাপী ঋণের পরিমাণ ৫৪ হাজার ৬শত ৫৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। যা মোট ঋণের ১০.৪৭ শতাংশ। সরকারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রুট হয়ে গেছে। এটা জনগণের টাকা। এটা ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি?

শিক্ষা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই। এবার শিক্ষা খাতে ৪ হাজার ৯ শত ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১৫.৬ শতাংশ। তবে চাহিদা ও প্রত্যাশার তুলনায় তা আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়েও আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি। আমরা চাই প্রতিবেশীদের ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থান তৈরী করতে। এ জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তির উপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত মানুষের মৌলিক অধিকার। এ খাতে ভ্যাট বসানো যাবে না। গ্রামাঞ্চলের স্বাস্ত্যখাতের উন্নয়নের সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর ভুয়া ডাক্তার, ক্লিনিক ও দালালদের দৌড়াত্ব থামাতে হবে। কিছু কিছু প্রাইভেট ডাক্তার ওধুষ কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ কোম্পানী থেকে কেনার সুপারিশ করেন। তার মানে তারা ঐ বিশেষ কোম্পানীর দালালি করেন। এটি বন্ধ করতে হবে। এ সময় স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার দাবিও জানান তিনি।

পাউরুটি, বন রুটি, বিস্কিট ও পনস স্যান্ডেলের উপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

মহিলাদের জন্য আলাদা একটি ব্যাংক দেয়ার দাবি জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেন, তাহলে অনেক মহিলা উদ্যোক্তা ছোট ছোট ঋণ নিয়ে সাবলম্বি হতে পারবে। আমরা ছোট ছোট কুটির শিল্প গড়ে তুলতে পারলে আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হবে এবং অনেকেই সাবলম্বি হতে পারবে। এ জন্য আমি অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাই।