দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

0
110

001_255998ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে দায়িত্ব পালন এবং সরকারের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘দেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেষ বিচার তো আল্লাহ করবেন। কাজেই এভাবে মানুষকে উজ্জীবিত করতে হবে ও সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী ভূমিকা প্রত্যেককে পালনে সচেষ্ট হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ৯৮ ও ৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপণী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মের প্রকৃত শিক্ষাটাই সবার আগে শিখতে হবে-সেটাই পালন করতে হবে। সেটাই কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে নয়, সে দায়িত্ব তো আল্লাহ নিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী তার সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আজকে ধর্মের নামে উন্মাদনা করে মানুষ হত্যা করে একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, তেমনি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। কাজেই এসবের থেকে মানুষকে কীভাবে দূরে রাখা যায়, সে বিষয়ে মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে আমরা একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছি। যেন ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ কখনও বাংলার মাটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’

তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নবীন কর্মকর্তাদের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা সব সময়ই আপনাদের থাকতে হবে।…কোন এলাকায় কোন জিনিসটা উৎপন্ন হতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. এম আসলাম আলম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘৯৮ ও ‘৯৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও শীর্ষস্থান অর্জনকারি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী একাডেমি লাইব্রেরিতে নবনির্মিত মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন নতুন করে আবার একটা উৎপাত শুরু হয়েছে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ। যেকোনোভাবেই হোক বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতেই হবে। সেজন্য আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। এর ফল আমরা পাচ্ছি। কারণ প্রত্যেক মানুষই শান্তিতে বসবাস করতে চায়। ইসলাম ধর্ম কখনও মানুষ খুন করতে বলেনি। মানুষের জীবন থাকবে কি থাকবে না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিয়েছেন। এটা তো মানুষের হাতে নেই। এটা মানুষকে বোঝাতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’