দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদক ভালো ফল দিচ্ছে না: অর্থমন্ত্রী

0
77

ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দুর্নীতি নিয়ে আমি খুব চিন্তিত। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আদালতও আছে। কিন্তু খুব বেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) দুর্নীতি প্রতিরোধে ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।

শনিবার প্রবাসী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন দেশে প্রথমবারের মতো ৩০ ডিসেম্বর দিনকে প্রবাসী দিবস হিসেবে পালন করেছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী মুহিত আরও বলেন, সিলেট মদন মোহন কলেজের বার্ষিক আয় ছিল মাত্র আট লাখ টাকা। অনেক টাকা আয়ের খাতায় যোগ হতো না। কিন্তু সেখানে সব ধরনের লেনদেন অনলাইনে করার ফলে ছয় মাসের মাথায় কলেজের আয় ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

আইসিটির এই অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে এর চেয়ে বড় আর কোনো হাতিয়ার নেই। তিনি বলেন, আইসিটি ব্যবহারে ৭৫ শতাংশ দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়।

প্রবাসীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে বড় উপাদান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। পাশাপাশি সমাজ অর্থনীতি ও রাজনীতি উন্নয়নে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, একসময় উত্তরের লোকজন বেশি বিদেশে গেছে। এখন দেশের সব অঞ্চল থেকে যাচ্ছে। তবে বিদেশে বেশি সংখ্যায় লোক গেলেও বিপরীতে রেমিটেন্স আসছে কম। এ জন্য আমরা খোঁজখবর এবং এ ব্যাপারে গবেষণা করছি। শিগগিরই এর কারণ জানা যাবে। এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিদেশে অবস্থান করছে বলে তিনি জানান।

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বছরে ছয় হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। অতিরিক্ত এই অর্থের জোগান কে দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের রেমিটেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা দেয়া হলে বর্তমানের তুলনায় এটি দ্বিগুণ হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১০০ বছর পূর্তি হবে ২০৭১ সালে। এ জন্য সরকার নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় একটি ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করেছে। আগামী ১০০ বছর পরের পরিকল্পনা যে দেশ করতে পারে সে দেশকে কেউ পিছিয়ে রাখতে পারবে না। প্রবাসীদের এ দেশে আরও বেশি করে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সরকারের ইকোনমিক জোনগুলোতে প্রবাসীদের জন্য পৃথক স্থান বরাদ্দ রাখার ব্যাপারে তিনি আশ্বাস দেন।

স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, হয়রানির কারণে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করছে না। বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধিত হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিবন্ধনের শতভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ।

তিনি বলেন, হয়রানি বন্ধ ও বিনিয়োগসহ অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য সরকার একটি প্রবাসী সেল গঠন করতে পারে।

এনআরবি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. নুরুন নবী বলেন, প্রবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছেন। এখানে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পরও কিছু রাঘববোয়াল ধমক দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন ধমক খেয়ে প্রবাসীরা এ দেশ থেকে চলে যাবে। তারা এসব প্রতিষ্ঠান দখল করবে। পরিস্থিতি এমন হলে প্রবাসীরা কিভাবে দেশে বিনিয়োগ করবে। আমরা অতিরিক্ত সম্মান চাই না। প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলে চলবে।

স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এমই চৌধুরী শামিম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রফেশনে আছে এমন ৪৭ হাজার প্রবাসীর ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতা দেশের মধ্যে সম্পৃক্ত করতে পারলে অনেক উন্নতি হবে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কলার্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব দিলারা আফরোজ খান রুপা। এতে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here