দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স: মোস্তাফা জব্বার

0
6

ঢাকা: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নীতি জিরো টলারেন্স, আমার নীতিও তাই।’

গত চার বছরের অগ্রগতি তুলে ধরতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবে এক বাক্যে জবাব দেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, সবার জন্য উচ্চগতির নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এ চ্যালেঞ্জে সফল হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

আগামী ২৬ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা চিত্র তুলে ধরেন। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কবলে থাকা এসব কোম্পানিতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে— এমন কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করাসহ নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং সৎ কর্মকর্তাদের বিধিমালার অপপ্রয়োগ করে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে— এমন উদাহরণও তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

কোম্পানি পরিচালনায় গঠিত পরিচালনা পর্ষদের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ব্যর্থতাও উঠে আসে সাংবাদিকদের বক্তব্যে। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের রাষ্ট্রায়াত্ত কোম্পানিগুলোর দুর্নীতি নিয়ে গঠিত পূর্বের একাধিক তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার উদাহরণও তুলে ধরে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে মন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবেন কি-না জানতে চান সাংবাদিকরা।এসব প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এক বাক্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান।

এর আগে মন্ত্রী তার বক্তব্যে টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন কোম্পানিগুলোর সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে বলেন, এক সময় টেলিটকের সিমকার্ডের জন্য মানুষের ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে, টেসিসের দোয়েল ল্যাপটপ পাওয়ার জন্য মানুষের লাইন পড়ে গেছে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে টেলিটক গ্রাহক ধরে রেখে বেসরকারি খাতের অপারেটরদের মত এগিয়ে যেতে পারেনি। প্রথম পর্যায়ের দুর্নামের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থায় আসতে পারেনি দোয়েল ল্যাপটপ। অথচ পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব দোয়েল ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে তার কার্যক্ষমতা নামি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের চেয়েওে ভালো প্রমাণিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কোম্পানিগুলোর ভেতরে সংকট আছে, কিন্তু সংকটকে সমস্যা হিসেবে না দেখে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ চ্যালেঞ্জে অবশ্যই সফল হওয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব। যেমন টেলিটকের গ্রাহক গত প্রায় দু’মাসে ৩২ লাখ থেকে ৪৫ লাখে পৌঁছেছে। কিন্তু লক্ষ্য হচ্ছে টেলিটককে শীর্ষে নেওয়া। এ জন্য টেলিটকের কলরেট কমানোসহ পর্যাপ্ত বিটিএস (বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন) স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডাক বিভাগকে ডিজিটাল সময়ের উপযোগী করা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও এ বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। এ অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু দ্রুত গতির নয়, একই সঙ্গে নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জে সফল হতে টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্য প্রযুক্তি শিল্প খাত বিকাশে দ্রুত গতির বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা তৃণমূলে পৌঁছে দিতে ইনফো সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে ইনফো সরকার-২ এর মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসগুলোকে ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন ইনফো সরকার-৩ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তা প্রায় দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি পৌঁছে দেবে। এটা হবে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জনে বড় অগ্রগতি।

সংবাদ সম্মেলনে চার বছরের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here