দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দিরের আদলে বনানীর দুর্গামণ্ডপ

0
84
ঢাকা: বার মাসে তের পার্বণ থাকলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয়া দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবাবের মতো এবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ।
এবার সবচেয়ে বড় দুর্গামণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে বনানী ও ধানমণ্ডির কলাবাগানে। কলতাকার দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দিরের আদলে বনানীর দুর্গা মণ্ডপ আর মর্ডান আর্ট ও ইউনিক ডিজাইনে তৈরি হচ্ছে কলাবাগানের মণ্ডপ।
দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি কলকাতার অদূরে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত একটি কালী মন্দির। এটি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কামারহাটি শহরের অন্তঃপাতী দক্ষিণেশ্বরে অবস্থিত। ১৮৫৫ সালে প্রসিদ্ধ মানবদরদী জমিদার রানী রাসমণি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।এই মন্দিরে দেবী কালীকে ‘ভবতারিণী’ নামে পূজা করা হয়।
কলাবাগানের পূজা মণ্ডপ
সরেজমিন মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বানানী ও কলাবাগান, উত্তরা, বসুন্ধরা, মতিঝিলসহ বিভিন্ন দুর্গা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বানানী ও কলাবাগানের দুর্গা মণ্ডপসহ অন্যান্য মণ্ডপে কাজ করছেন শিল্পীরা। মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে বাঁশ, হার্ডবোট, কাঠ, গর্জন ফ্লাইবোড দিয়ে। মণ্ডপে লাল, সাদা,  খয়েরি ও সোনালি রঙের কারুকাজ তো রয়েছেই।
দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দিরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে বনানীর দুর্গা মণ্ডপ। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে নিজ দায়িত্বে ভলান্টিয়ার যুক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিন আরো দেখা মেলে, শুধু মণ্ডপই নয়, মণ্ডপগুলোতে  প্রায় ১০ থেকে ১২টির মতো স্টলের জন্য কাজ চলছে। এসব স্টলে থাকবে স্বাস্থ্যসেবা, খাবার দোকান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন বইয়ের দোকান, রাধাকৃষ্ণের মূর্তি, কসমেটিস ও শিশুদের খেলনার দোকান।
এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশি পাহারা রাখা হয়েছে।
বনানী ও কলাবাগানসহ অন্য মণ্ডপের কাজ আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গেছে।
বানানী দুর্গা মণ্ডপের কারুশিল্পের কাজ করছিলেন মাহফুজ নয়ন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুর্গোৎসব এলেই প্রতিবারই আমি এ কাজ করে থাকি। শুধু কর্মের জন্য না ভালোবেসেই এই কাজ করা। কারণ সৃষ্টির আনন্দই অন্যরকম। এখন পূজা ঘনিয়ে আসায় দিন-রাত সমানতালে কাজ চলছে।
বনানীর মণ্ডপের বিষয়ে গুলশান-বনানীর সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি এস কে দাস যুগান্তরকে বলেন, এবারে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দিরের আদলে। দিন-রাত প্রায় ২০০ জনের মতো কাজ করছে। নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শংকিত নই। আইনশৃংখলা বাহিনী আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে। এছাড়া আমরা নিজ দায়িত্বে ১০০ জনের মতো ভলান্টিয়ার  নিয়েছি, যারা  পূজা শুরুর দিন থেকে কাজ করবে।
কলাবাগান মণ্ডপে কাজ করছিলেন রাজেস। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। বুধবার দুর্গা মূর্তি মণ্ডপে নিয়ে আসা হবে। আর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা মোটেই শংকিত নই। পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করছে।
এদিকে মহালয়ার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো দেবীর মর্ত্যে আগমনের ডামাডোল।
দেবী দুর্গা এবার নৌকায় করে মর্ত্যলোকে এসেছেন এবং ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশ পর্বতে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার ভোর থেকেই পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
বনানীতেও সকালে মহালয়ার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে দুর্গাপূজার প্রথম আনুষ্ঠানিকতা মহালয়ার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব ভলান্টিয়াররাও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছে। পূজা মণ্ডপে জঙ্গি হামলার কোনো আশংকা নেই। প্রত্যেকটি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরা দ্বারা বেষ্টিত। দেশজুড়ে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ৩০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এই দুর্গাপূজা।
রাজধানীতে ২৩১টি মণ্ডপসহ সারা দেশে এ বছর ৩ হাজার ৭৭টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মণ্ডপ ও মন্দিরে পুলিশ-র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে এক লাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here