তোফায়েল-রুশনারা আলী বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে জবাবদিহি করতে হবে

0
71

ঢাকা: সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যদূত ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের ভরণ-পোষণও করতে হচ্ছে। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপুল জনগোষ্ঠীর এই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের রাখতে পারবে না।

সোমবার সচিবালয়ে বৈঠক শেষে এদুই নেতা পারস্পরিক অবস্থান থেকে এসব কথা বলেন।

এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যদূত এমপি রুশনারা আলী এবং ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লাকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রুশনারা আলী বলেন, মুসলমানদের ওপর নির্বিচারে নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগ ও দেশছাড়া করার মতো নানা অপরাধ করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অথচ এই নিধনযজ্ঞে নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারও।

তিনি বলেন, ফলে রাখাইনে রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। জীবন বাঁচাতেই তারা বাংলাদেশে আসছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পাশে আছি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশকেও বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। মিয়ানমারে যা ঘটে চলেছে, তা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি এসব অপরাধে তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা জরুরি। এর জন্য দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপও অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্বের সবাই এ বিষয়ে একমত হলেই সেটা করা সম্ভব।

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো বলে উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, এদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সাহায্য অব্যাহত রাখা জরুরি। আমরা হয়তো তাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। এখন ভরন-পোষণও করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসছে। আমরা সেটা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে তারা বাংলাদেশের জন্য বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা তো তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দিতে পারি না। এর একটা রাজনৈতিক সমাধান জরুরি। সেটা করতে হবে মিয়ানমারকেই। এর জন্য বিশ্বকে পাশে চাই আমরা। তিনি যুক্তরাজ্যকে এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।