তুষার ঝড়ে ৩ লক্ষাধিক বাংলাদেশী সহ ১৭ অঙ্গরাজ্যে দেড় কোটি আমেরিকান গৃহবন্দি : নিহত ১৬

0
113

নিউইয়র্ক থেকে: ইংরেজী নতুন বছরের প্রথম প্রহরে শুরু হাড় কাঁপানো শৈত প্রবাহের চরম অবনতি ঘটে ৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোরে। হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রায় যোগ হয় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেড়ে প্রবাহিত তুষার ঝড়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারলিনা, নর্থ ক্যারলিনা, উইসকনসিন, মিজৌরি, মিশিগান, নর্থ ডেকটা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ডিসি, পেনসিলভেনিয়া, দেলওয়ার, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্্স, রোড আইল্যান্ড, নিউ হ্যামশায়ার, ভারমন্ট, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রায় দেড় কোটি আমেরিকান গৃহবন্দি হয়ে দিনাতিপাত করেন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এর মধ্যে ৩ লক্ষাধিক বাংলাদেশীও রয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে নিহত হয়েছেন ১৬ আমেরিকান।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর মধ্যে উইসকনসিন-৬, টেক্সাস-৪, নর্থ ক্যারলিনা-৩, মিজৌরি, মিশিগান এবং নর্থ ডেকটায় একজন করে রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় ১২ ইঞ্চি থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত ছাড়াও বস্টন ও লং আইল্যান্ডে উপক’লিয় এলাকায় ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। বস্টনের রাস্তা ডুবে যায় গলে যাওয়া বরফের পানিতে।

ভয়ংকর দুর্যোগের কারণে নিউইয়র্ক, বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর, প্রভিডেন্স, রোড আইল্যান্ডসহ ১১টি সিটির সকল স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয় ৪ জানুয়ারি। সরকারী অফিসে উপস্থিতির ওপর কোন বাধ্যকতা ছিল না। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ম্যাসেচুসেট্্স, কানেকটিকাট, প্রভৃতি অঙ্গরাজ্যের বিস্তির্ণ এলাকায় জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। লোকজনকে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হবার পরামর্শ দিয়েছিলেন রাজ্য গভর্ণরেরা।

নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সিতে অবস্থিত এয়ারপোর্টসমূহে দুই হাজার ফ্লাইটসহ বস্টন, ফিলাডেলফিয়া, ভার্জিনিয়া প্রভৃতি এলাকার ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বলে জানিয়েছেন পোর্ট অথরিটির নির্বাহী পরিচালক রীক কটন। যাত্রী সাধারণকে পরবর্তী ফ্লাইটের কনফার্মেশনের অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড, ওজনপার্ক, পার্কচেস্টার, হাডসন, নিউজার্সির প্যাটারসন, আটলান্টিক সিটি, পেনাসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া, আপারডারবি, মিল বোর্ণ সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার সকল দোকানপাট ছিল জনমানব শূন্য। নিউইয়র্ক সিটিতে ২৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশী ট্যাক্সি ড্রাইভারের ৯০% কাজ করেননি দুর্যোগের কারণে।

পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিল বোর্ন সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নূরল হাসান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হাডসন সিটির কাউন্সিলম্যান শেরশাহ মিজান এবং লং আইল্যান্ডের লিন্সব্রুক সিটির ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক পৃথকভাবে এ সংবাদদাতাকে জানান, ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে তুষার ঝড়ে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তাপমাত্রা নেমে হিমাঙ্কের নীচে আসায় লোকজন ঘরের বাইরে আসেননি। সড়ক-মহাসড়কে পুলিশ আর এ্যাম্বুলেন্স ব্যতিত যান চলাচল ছিল একেবারেই কম।

নিউইয়র্ক সিটির বাস ও সাবওয়ে চলাচল করলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল হাতে গোণা। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের বুলেটিনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসছে রোববার পর্যন্ত উপরোক্ত এলাকার তাপমাত্র হিমাঙ্কের নীচেই থাকবে অর্থাৎ শীতের তীব্রতায় জীবন-যাপন করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here