ঢাকায় অংশীদারিত্ব সংলাপ আজ, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চায় বাংলাদেশ

0
121

ঢাকা: রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চায় বাংলাদেশ। দু’দেশের মধ্যে অনুষ্ঠেয় অংশীদারিত্ব সংলাপে ঢাকার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হবে বলে জানা গেছে। আজ ঢাকায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও মিয়ানমারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে ঢাকায় দু’দেশের এ সংলাপকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ জাপান পৌঁছার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অপরদিকে, ১৫ নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যানন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই সবার বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। বাংলাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিক যাতে মিয়ানমার মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, অংশীদারিত্ব সংলাপে যোগ দিতে থমাস শ্যানন আজ ২ দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। সফরকালে সংলাপ ছাড়াও তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক ইস্যু বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি শ্রীলংকা যাবেন।

শনিবার পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি, এ সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরিপূর্ণ সহায়তা পাব। এ ব্যাপারে তিনি আর কিছুই বলেননি। অবশ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কঠোর পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কোনো সদিচ্ছা নেই। এ সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়ক পদক্ষেপ বাংলাদেশ কামনা করে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞাই হতে পারে সেই পদক্ষেপ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া ব্যবস্থায় বিশ্বের অনেক সংকটে ফলাফল হয়েছে বেশি। এখানেও আমরা সেটাই দেখতে চাই। আমরা মনে করি, মিয়ানমারের যেসব জেনারেল রাখাইনে গণহত্যা চালিয়েছে; তাদের বিদেশে গচ্ছিত রাখা অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। এটা করা হলে শুধু মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে।

এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী সাইমন হেনশ বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে সর্বশেষ পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যায় সেটা মার্কিন কংগ্রেস খতিয়ে দেখছে। শনিবার গুলশানের আমেরিকান ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্টও বক্তব্য রাখেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এখানে আসার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এ সংকট নিরসনে টিলারসন খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। শুধু মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরই নয়; হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস এমন কি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও এ সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছেন সায়মন হেনশের নেতৃত্বে শক্তিশালী মার্কিন প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে। এ প্রতিনিধি দলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক ব্যুরোর উপসহকারী মন্ত্রী স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী মন্ত্রী টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক পেট্রিসিয়া মোহানি রয়েছেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।

এ সম্পর্কে হিদার নুয়ার্ট বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন তার মিয়ানমার সফরের আগেই মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। নুয়ার্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে যোগদানের আগে সাংবাদিকতা করেছি। সাংবাদিক হিসেবে দারফুর ও সিরিয়ায় শরণার্থী শিবির দেখেছি। এবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের হয়ে রোহিঙ্গা শিবির দেখলাম। আমরা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর সঙ্গে যুক্ত আছি।

সাইমন হেনশ বলেন, এটি খুবই জটিল সংকট। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে গণতন্ত্রে ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে। দেশটি সফরকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রাখাইনে স্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কথা বলেছি। যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় সম্মানের সঙ্গে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারে। তাদের বাড়িগুলো পুনর্গঠন করতে হবে। রাখাইনে রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর মধ্যে সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে প্রথমে তিন কোটি ২০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তারপর অনেকেই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সংকটের সবচেয়ে ভালো সমাধান হল- রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। এখন মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা মিয়ানমারের দায়িত্ব।

রাখাইনে গণহত্যা পরিচালনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে সাইমন হেনশ বলেন, রাখাইনে সংঘটিত নিষ্ঠুরতার পরিপূর্ণ তদন্ত দাবি করছি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। অনেক রোহিঙ্গা এসে অভিযোগ করছেন, যৌন হয়রানি ও খুনসহ নানা ধরনের নিষ্ঠুরতা করা হয়েছে। এগুলোর পরিপূর্ণ তদন্ত করতে হবে।

টিলারসন এবার বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হেনশ বলেন, টিলারসন কয়েক ঘণ্টার সফরে মিয়ানমার যাচ্ছেন। তার হাতে খুব বেশি সময় নেই। ফলে যেখানে সংকটের সৃষ্টি সেখানে যাওয়াই উচিত হবে। সেই বিবেচনায় তিনি মিয়ানমার যাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here