ঢাকাই ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ‘হিজড়া’ হাসি

0
142

16045616128700_10209820304043403_1627654191_nবিনোদন ডেস্ক: হিজড়া সপ্রদায়ের মেয়ে শীলা। শীলাকে যখন স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তাকে স্কুলে ভর্তি নেওয়া হয় না। ‘হিজড়া’ শিশুকে ভর্তি করালে স্কুলের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে এমনটাই চিন্তা করেছিল স্কুল করতৃপক্ষ। শীলার পড়াশোনার ইচ্ছা সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বদান্যতায় শীলা স্কুলে ভর্তি হয়।

মেধাবী শিক্ষার্থী শীলা। শুধু স্কুল নয়, কলেজেও মেধার সাক্ষর রাখে, নিজেকে তুলে ধরে অনন্য উচ্চতায়। এমনকী এমবিবিএসে সারাদেশের মেডিক্যাল বোর্ডে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় শীলা। শুধু হিজড়া সম্প্রদায়ই নয় শীলার কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক মন্তব্যকারীরাও বিস্মিত হয়ে যান। সবাই শীলার সাফল্যে শুভা কামনা জানান।

তৃতীয় লিঙ্গের শীলা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যাওয়ার আগে তাকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তাকে সম্মানসূচন সম্মাননা দেয়া হয়।   শীলা সিনেম্যাটিক নাম। আসল নাম হাসি। প্রথমবারের মতো বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। ছবির নাম ‘মায়াবীনি। ‘ ভৌতিক ও কালোযাদুর ওপর বেইজ করে নির্মিত এই ছবিতে মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাইমন সাদিক। হিজড়াদের নিয়ে বৈষম্যের বড় একটা অংশ গল্পে স্থান পেয়েছে।

ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসি। হাসির গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। থাকেন ঢাকার মগবাজার এলাকায়। একদিনের তাদের ডেরাতে হানা দিয়ে হাসিকে খুঁজে নেন পরিচালক আকাশ আচার্য। প্রস্তাব দেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করার।   হাসি চিন্তা করেন। নিজেদের সম্প্রদায়ের সাথে আলাপ করেন। ফাইনালি সবাই উৎসাহ দেন অভিনয়ের। হাসি অভিনয় শুরু করেন। গত বছরের শুরুতে শুটিং শুরু হয়।

হাসি বলেন, সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়ে মনে হলো আমি তো অভিনয় করছি না। বাস্তবে আমি যা করি তাই করছি। মায়াবীনি ছবিটা আমাদের মতো সুবিধাবঞ্চিত ও আমাদের মতো অবহেলিতদের গল্পে নির্মাণ করা হয়েছে।   আমি প্রথমে মনে করেছিলাম অভিনয় পারবো না, কিন্তু যখন দেখলাম আমি বাস্তব জীবনের ঘটনাতেই হাঁটছি।

হাসি বলেন, এটা একটা রহস্য ও ভৌতিক ছবি একই সাথে আমাদের হিজড়া সম্প্রদায়ের বড় একটা গল্প রয়েছে ছবিতে। আমার মনে হয় ছবিটা সবার দেখা দরকার তাহলে বিনোদনের পাশপাশি হিজড়াদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here