ঢাকাই চলচ্চিত্রকর্মীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে কাজ করছেন কলকাতার শিল্পীরা

0
113

27_107468_(1)_41591_1489016673বিনোদন ডেস্ক: গেল দু’বছর থেকে ঢাকার ছবিতে কলকাতার শিল্পীদের আনাগোনা একটু বেশিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের অনেকেই বৈধ ভিসায় বাংলাদেশে এসে অবৈধভাবে সিনেমায় কাজ করছেন। এ নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে চলছে তুমুল সমালোচনা।

বিস্তারিত লিখেছেন এফ আই দীপু

‘স্বদেশী পণ্য কিনে হন ধন্য’ প্রবাদের এ কথাটি কেবল প্রবাদেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে কথাটির ওপর খুব কম মানুষকেই আমলে নিতে দেখা যায়। বেশ ক’বছর হল ঢাকাই ছবির মন্দা চলছে বলে চিৎকার করে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষরা। যা এখন মারাত্মক আকারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে এ মন্দা বাজারেও দেশের অনেক নির্মাতা এবং অভিনেতারা চেষ্টা করছেন চলচ্চিত্র শিল্পের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতা দিয়ে চলচ্চিত্রের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে। অনেকে আবার ফাঁকা আওয়াজেই ব্যস্ত রয়েছেন। আবার কেউ কেউ মুখে মুখে চলচ্চিত্র শিল্পের উত্তরণের বড় বড় কথা শুনিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ায় ব্যস্ত।

এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চেপে বসেছে কলকাতার শিল্পীদের আনাগোনা। বিশেষ করে কলকাতা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে অর্থ লগ্নির নামে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বেশ হাক-ডাক দিয়েই। বিষয়টিকে অনেকে পজেটিভ দেখলেও এর পেছনে যে অন্য এক অভিসন্ধি রয়েছে তা আন্দাজ করছেন অনেকেই। দেশের চলচ্চিত্র শিল্প দখলের এ তালিকায় এখন আবার যুক্ত হয়েছে কলকাতার নায়িকাদের নিয়ে ছবি বানানোর হিড়িক। বিষয়টি আগে কিছুটা হালকা দেখা গেলেও গেল বছর থেকে এ ধারার হাওয়া বইছে তুমুলভাবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাজ না পাওয়া কিংবা কমে যাওয়া নায়িকারা এখন বাংলাদেশে তাদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। পারিশ্রমিক কম হওয়ায় এ দেশের নির্মাতারাও লুফে নিচ্ছেন তাদের।

কলকাতার প্রথম সারির নায়িকারাও এখন বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এ তালিকায় রয়েছেন কোয়েল মল্লিক, শ্রাবন্তী, শুভশ্রী, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত, সায়ন্তিকা, প্রিয়াংকার সরকার, পাওলী দাম। ফলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন দেশের সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। তারা দাবি করছেন, সম্প্রতি যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। চলচ্চিত্রের বাজার বাড়ানোর নাম করে এসব ছবি নির্মাণের মাধ্যমে ফায়দা লুটছে একশ্রেণীর অসাধু নির্মাতা-প্রযোজক।

বিনোদনের আড়ালে সাদা হচ্ছে কালো টাকা। ভিনদেশী শিল্পীরা দেশের টাকা নিয়ে যাচ্ছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। এসব অসাধু কর্মকাণ্ডের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দেশীয় শিল্পীদের ক্যারিয়ার আজ হুমকির মুখে। বিশেষ করে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আমাদের দেশের নায়িকারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই পশ্চিমবঙ্গের হালের শীর্ষস্থানীয় নায়িকারা তাদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করতে আসছেন। গেল বছর কলকাতার নায়িকা শুভশ্রী নির্মাতা অনন্য মামুনের ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’র মাধ্যমে এ দেশে নিজের অভিষেক ঘটান। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ছবির বাজারে প্রবেশ করেন তিনি।

বিদেশী পণ্যের প্রতি আমাদের চাহিদা একটু বেশিই দেখা যায়। এ চাহিদা থেকে বিদেশী নায়িকাদের অভিনীত ছবিগুলোও দর্শকরা লুফে নিচ্ছেন বলে অনেকে বলে থাকেন। কিন্তু গত দুই বছরে কলকাতার কোনো নায়িকার ছবি বাংলাদেশে হিট হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। তারপরও ব্যবসায়িক লাভের কথা বিবেচনা করে আগামীতে কোয়েল, মিমিকে নিয়ে ছবি নির্মাণের আগ্রহী হয়ে পড়ছেন দেশের নির্মাতা ও প্রযোজকরা। জানা গেছে, শাকিব খানের বিপরীতে ভেঙ্কটেশের প্রযোজনায় ‘বিদ্রোহী’ নামের ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন কোয়েল মল্লিক। কোয়েলের পাশাপাশি কলকাতার আরেক নায়িকা নুসরাত জাহানও এ ছবিতে অভিনয় করতে পারেন বলে খবর চাউর হচ্ছে। এ ছাড়াও নুসরাত ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য আগেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। একটি মিউজিক ভিডিওতে দেখা যাবে তাকে। পাশাপাশি সম্প্রতি রফিক শিকদারের ছবি ‘হৃদয় জুড়ে’তে চুক্তি করা হয়েছে কলকাতার আরেক বি গ্রেডের নায়িকা প্রিয়াংকা সরকারকে। ২৪ ফেব্রুয়ারি টুরিস্ট ভিসায় ঢাকায় এসে ছবিটির মহরতে অংশ নিয়েছেন এ নায়িকা। এ ছাড়াও মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘তুমি যে আমার’ ছবির নায়িকা হিসেবে শ্রাবন্তীকে নেয়ার কথা হচ্ছে বলেও খবর ছড়িয়েছে। যদিও পরিচালক এ বিষয়ে এখনও মুখ খুলেননি। চিত্রনায়ক আলমগীরের পরিচালনায় একটি ছবিতে কলকাতার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীকে নেয়ার কথা হচ্ছে বলেও বিশেষ সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

কলকাতার নায়িকারা যে বাংলাদেশী সিনেমায় কাজ করছেন তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে তারা কাজ করতে আসছেন বাংলাদেশে। টুরিস্ট ভিসায় ঢাকা এসে শুটিং করে যাচ্ছেন হরদম। অথচ নিজ দেশ ছেড়ে ভিন্ন কোনো দেশে কাজ করতে হলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ওয়ার্কপারমিট নিতে হবে। কিন্তু কলকাতার শিল্পীদের বেশিরভাগই ওয়ার্কপারমিট ছাড়াই বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তারা পারিশ্রমিকও নিচ্ছেন অবৈধ উপায়ে। বাংলাদেশ সরকারের প্রাপ্য ট্যাক্স ফাঁকি দিতে পারিশ্রমিক নেয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকিং সিস্টেমের বদলে হুন্ডিকেই বেছে নিয়েছেন অনেকে। মানি লন্ডারিং করে দেশীয় অসাধু একটি চক্র ভারতীয় শিল্পীদের পারিশ্রমিক প্রদান করছেন। কেউ কেউ আবার ট্যাক্স ফাঁকি দিতে কাগজে-কলমে নিজেদের পারিশ্রমিক দেখাচ্ছেন মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। অথচ তাদের প্রত্যেকেই সর্বনিন্ম পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাাস্ট্রিতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন নির্মাতা ও শিল্পীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের কাছে প্রতিবাদ করছেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রখ্যাত গীতিকবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘নিয়ম না মানা আমাদের মধ্যে এক ধরনের সংস্কৃতি হয়ে গেছে। সবখানেই চলছে নিয়ম না মানার মহোৎসব। যে যার মতো ছবি বানাচ্ছেন। বিদেশী নায়িকা নিচ্ছেন। কোনো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। বিদেশী কোনো শিল্পী বাংলাদেশে কাজ করতে হলে অনুমতি কার কাছ থেকে নিতে হবে এটাও অনেকে জানেন না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এতে যে দেশকে হেয় করা হচ্ছে এটা বোঝার মতো মানুষ কোথায়? সবাই নিজ নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত।’ চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াত বলেন, ‘এটা বিশ্বায়নের যুগ। এ সময়ে এক দেশের শিল্পীরা অন্য দেশে কাজ করার জন্য যাচ্ছেন। বিষয়টি আগেও ছিল তবে বর্তমান সময়ের মতো এতটা নয়।

দেশের স্বার্থের সঙ্গে যায় না এমন কোনো কাজ আগেকার নির্মাতাদের মধ্যে দেখা যায়নি। এখন এটা বেশ আকারেই যাচ্ছে। এটা কাম্য নয়। যেখানে আমাদের দেশের আর্টিস্টরা কাজ পাচ্ছেন না সেখানে বাইরের নায়িকাদের এনে ছবি বানানোর কোনো যুক্তি দেখছি না। এমন তো নয় যে তাদের ছবি হিট হচ্ছে। বরং দেশের নায়িকাদের দর্শকদের সামনে ভালো করে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও আমি জানি না তারা কোন প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশে কাজ করতে আসছেন? এ থেকে দেশ লাভবান হচ্ছে কিনা?’ পরিচালক সমিতির বর্তমান মহাসচিব বদিউল আলম খোকন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা তো দেশের তারকাদের দিয়েই ছবি বানিয়েছি। আমাদের ছবি তো দর্শকরা গ্রহণ করেছেন। তাহলে এখন দর্শকদের গ