ট্রাম্প বনাম কমি ‘কাকে বিশ্বাস করবে আমেরিকা’

0
170

trump-comey_47529_1495170088আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকার জনগণ এখন একটি অবশ্যম্ভাবী পছন্দের সম্মুখীন। আর তা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে বিশ্বাস করবে। শুরু থেকেই সত্য প্রকাশের ব্যাপারে সব সময় রহস্যময় আচরণ ও মন্তব্য করে আসছেন।

অন্যদিকে সদ্য বরখাস্ত এফবিআই প্রধান তার দায়িত্বের ব্যাপারে একাগ্রতার পরিচয় দিয়েছেন। কমিকে বরখাস্ত করা নিয়ে একটি নাটকীয় ব্যাপার ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

এফবিআই প্রধানের চাকরিচ্যুতির প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের রুশ সংযোগ তদন্ত বন্ধ করতে বলেছিলেন কমিকে। তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়াকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছিলেন জেনারেল ফ্লিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ফ্লিন পদত্যাগের একদিন পরই হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে কমিকে এ বিষয়ে তদন্ত না করতে বলেছিলেন ট্রাম্প।

সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বৈঠকের পরপরই একটি মেমো লেখেন কমি। ওই মেমো অনুসারে, ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ফ্লিনের যোগসাজশ নিয়ে তদন্ত কার্য আর না এগোনোর জন্য তাকে অনুরোধ করেন। কমির এ মেমোই এখন ওয়াশিংটনের সবচেয়ে খ্যাত প্রামাণ্য দলিলগুলোর অন্যতম হওয়ার পথে।

বলা হচ্ছে, কমি এমন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী যাকে হোয়াইট হাউস ঘাঁটাতে আসবে না। কমি তার মেমোতে যে দাবি করছেন তা যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে তা শক্তিশালী একটি দলিল হয়ে হাজির হবে। এতে প্রমাণিত হবে যে, ট্রাম্পের কমির নেতৃত্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা ন্যায়বিচারের প্রতি বাধা সৃষ্টি হিসেবে। আর এটা তিনি করেছেন এজন্য যে, এই তদন্ত তার প্রেসিডেন্সির প্রতি বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।

এ ব্যাপারে সিএনএনের সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডেভিড জার্গেন বলেন, ‘মনে হচ্ছে, ট্রাম্প এর মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেন এবং সেটা করতে তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে কমি যখন তার সঙ্গে একমত হননি, তখনই তিনি তাকে বরখাস্ত করেন।’

জার্গেন বলেন, মঙ্গলবার বিষয়টা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এখন এতই মারাত্মক যে, আমেরিকা একটি নতুন ধরনের অভিশংসন নাটক উপভোগ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এটা এখন নিশ্চিত যে, কমির অকাল চাকরিচ্যুতি ও মেমো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে খুব শিগগিরই কংগ্রেসে ডাকা হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে ডেকে নিয়ে ট্রাম্প তাকে ঠিক বলেছিলেন সে ব্যাপারে কঠোর প্রশ্নের মুখে কমি।

এদিকে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলের রিপাবলিকান সদস্য এযাবৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তেমন একটা সরব হননি। তবে এ পরিস্থিতি এখন পরিবর্তিত হতে পারে। কংগ্রেসের হাউস নজরদারি কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জ্যাসন শ্যাফেজ ইতিমধ্যে এফবিআইকে সব স্মারকলিপি, নোট, চিরকুট, তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত ও অডিও রেকর্ড কংগ্রেসে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শ্যাফেজ এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, রিপাবলিকান পার্টির নজরদারি কমিটি কমির মেমো দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা আমি দেখব। সিএনএন।