ট্রাম্প-তেরেসার বিরল বাকযুদ্ধ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটারে মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও প্রকাশ

0
83

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও নিয়ে নজিরবিহীন বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।

ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী ওই ভিডিও শেয়ারের সমালোচনা করে তেরেসা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্রিটিশ উগ্র ডানপন্থীদের ভিডিও রিটুইট করে ‘ভুল করেছেন’।

জবাবে তেরেসাকে একহাত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের দিকে নজর না দিয়ে তেরেসাকে নিজের চরকায় তেল দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তেরেসার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, নিজ দেশের সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন। ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র দেশের নেতাদের মধ্যে এ ধরনের বাকযুদ্ধ বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। খবর বিবিসি ও এএফপির।

বুধবার এক ব্রিটিশ উগ্র ডানপন্থী সংগঠনের নেতা মুসলিমবিদ্বেষী তিনটি ভিডিও পোস্ট করেন। পরে ট্রাম্প ওই ভিডিওগুলো রিটুইট করলে বেশ সমালোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার জর্ডান সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা বলেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছি, মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করা ট্রাম্পের জন্য ভুল।

তবে ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর বাতিলের আহ্বান নাকচ করেছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের বিশেষ সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেন তেরেসা।

এর আগে তেরেসার মুখপাত্র বলেন, ওই ধরনের কাজ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ভুল করেছেন’। এর জবাবে এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার দিকে নজর দিয়েন না, যুক্তরাজ্যে বিরাজমান ধ্বংসাত্মক মেৌলবাদী ইসলামী সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন।’

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দু’দেশের মধ্যে এ মিত্রতাকে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ বলে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বিদেশি নেতাদের মধ্যে তেরেসাই প্রথম হোয়াইট হাউস সফর করেন।

বুধবার উগ্র ডানপন্থী সংগঠন ‘ব্রিটেন ফার্স্টের’ উপনেতা জায়দা ফ্রানসেন তিনটি মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওগুলো পরে রিটুইট করেন ট্রাম্প। টুইটারে ট্রাম্পের সাড়ে চার কোটি অনুসারী রয়েছে।

উগ্র ডানপন্থী ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ গোষ্ঠীটি তৈরি করেছেন। তারা ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চষ্টো চালিয়ে যাচ্ছেন।

এসব ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য বা ভিডিও সম্পূর্ণ মিথ্যায় ভরা। ফ্রানসেনের শেয়ার করা প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম শরণার্থী ক্র্যাচে ভর দিয়ে থাকা এক ওলন্দাজ বালককে আঘাত করছে।

অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক এক বালককে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে। সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভার্জিন ম্যারির ভাস্কর্য নষ্ট করছে।

ভিডিওগুলোয় আক্রমণকারী ব্যক্তিদের মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৩১ বছর বয়সী ফ্রানসেন বেলফাস্টের এক সমাবেশে ‘হুমকিপূর্ণ, অবমাননাকর ও অপমানজনক’ শব্দ ব্যবহার করে ভাষণ দেন, যা নিয়ে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।

তার পোস্ট করা ভিডিওগুলো রিটুইট করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। ব্রিটেনে খ্রিস্টীয় প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের সর্বোচ্চ যাজক ক্যান্টাবুরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি বলেন, ট্রাম্প উগ্র ডানপন্থীদের কণ্ঠ জোরালো করার পথে গেছেন, যা অত্যন্ত বিরক্তিকর।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, Èআমি আশা করি, আমাদের সরকার উগ্র ডানপন্থীদের টুইট ট্রাম্পের রিটুইট করার ঘটনায় নিন্দা জানাবে। এগুলো ঘৃণ্য, বিপজ্জনক এবং হুমকিপূর্ণ।’

লেবার এমপি ইভেত্তে কুপার বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার ট্রাম্পের টুইটের ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী সংগঠনের হয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে- এমন নারীর প্রচারণাই প্রচার করছেন তিনি।

এটা লজ্জাজনক ঘটনা।’ ব্রিটেন ফার্স্টের উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত এমপি জো কক্সের স্ত্রী ব্রেনডান কক্স ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার দেশে প্রতিদিনই বহু বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। আপনার দেশের হত্যাকাণ্ডের হার যুক্তরাজ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি। মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে আপনি কোনো আইন পাস করতে পারেন না। আমি বলব, আপনি সেগুলোর দিকেই নজর দিন।’

এছাড়া এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করার ডাক উঠেছে আবার। তবে বুধবার ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের জন্য আমন্ত্রণ এখনও বহাল আছে।

তবে এ ঘটনায় দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষী টুইট ছড়িয়ে যুক্তরাজ্যে ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টির চষ্টো করছেন।

বহু ব্রিটিশ নাগরিক এ ধরনের আচরণকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উলে্লখ করছেন।’ ব্রিটেনে ট্রাম্পের সফর বাতিলের জন্য তেরেসার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাদিক খান।

টুইটারে তাড়াহুড়ো করে তেরেসাকে দেয়া জবাব প্রথমে ভুল টুইটার অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করেছিলেন ট্রাম্প। তার বিবৃতি এমন একজনের কাছে চলে গিয়েছিল, যে ব্যক্তির অনুসারী মাত্র ছয়জন। পরে ওই টুইট ডিলিট করে সেটি আবার পোস্ট করেন ট্রাম্প। এবার বার্তাটি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দাফতরিক অ্যাকাউন্টে ট্যাগ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here