ট্রাম্পের সহযোগীদের পাকড়াও, রবার্ট মুলার এখন ওয়াশিংটনের রাজা

0
107
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মার্কিন বিচার বিভাগের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার এ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন! ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় প্রচারণাকালে রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের গোপন যোগসাজশ তদন্ত করছেন মুলার। গত সোমবার সেই তদন্ত প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তি প্রকাশ করে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন জনগণ ও সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। এমন কঠিন একটি তদন্ত কাজের মধ্য দিয়ে মুলার দেখিয়েছেন, তিনি যেমন কোনো বিষয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন, ঠিক তেমনি যখন কোনো বিষয় জনসমক্ষে ফাঁস করেন, সেটা সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিষয়টি মুলার কতটা গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন, তা তার এ সম্পর্কিত প্রথম বড় ধরনের প্রতিবেদনে সেটাই প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে যে ধরনের নথিপত্র তিনি প্রকাশ করেছেন এবং যেভাবে সন্দেহভাজনদের এ মামলায় সহযোগিতার জন্য বাগে এনেছেন তা প্রকৃত অর্থেই তার আন্তরিকতার প্রকাশ।
ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা টিমের চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট, ম্যানাফোর্টের সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগী রিক গেটসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে নথি প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ গঠন করেন ওয়াশিংটন ডিসির গ্র্যান্ড জুরি। তদন্তের স্বার্থে এই গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেন তিনি। তাতে পল ম্যানাফোর্টকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে ট্রাম্প টিমের সাবেক উপদেষ্টা জর্জ পাপাডোপুলাসের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাশিয়ার কূটনীতিক বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে এফবিআইয়ের কাছে মিথ্যা কথা বলেছিলেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তিতে মুলার যেসব নথিপত্র প্রকাশ করেছেন, সামনের দিনে সম্ভবত তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী বোমা ফাটাতে যাচ্ছেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে এক শুনানিতে জর্জ পাপাডোপুলাসকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়ার সময় স্পেশাল কাউন্সেলের অফিসের মুখপাত্র অ্যারন জেলিনস্কি বলেন, ‘মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপকভাবে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তি সেই তদন্তের একটি অংশ মাত্র।’ এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক মুলারকে চলতি বছরের ১৭ মে স্পেশাল কাউন্সেল নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স নিজেকে রাশিয়া সম্পর্কিত তদন্তে প্রত্যাহার করে নেন। রুশ সম্পর্কিত তদন্ত করার কারণে ট্রাম্পের এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমিকে বরখাস্ত করার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টেইন মুলারকে স্পেশাল কাউন্সেল নিয়োগ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, রবার্ট মুলারকে বরখাস্ত করতে পারেন ট্রাম্প। এমন গুজবের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারাহ স্যান্ডার্স হুকাবি বলেছেন, তার (প্রেসিডেন্ট) এমন পরিকল্পনা নেই। যদি রবার্ট মুলারকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প তাহলে দ্রুততার সঙ্গে ‘একশনে’ যাবে কংগ্রেস, এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ সিনেটররা। ৫ মাস আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই ঘটনায় বরখাস্ত করেছিলেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমিকে। এবার তিনি রবার্ট মুলারের দিকে হাত বাড়াতে পারেন। এ আশঙ্কায় সিনেটরদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পারদ তুঙ্গে। তবে এখন ক্যাপিটাল হিলে দুটি বিল ঘুমন্ত অবস্থায় আছে। এ দুটি বিল দিয়ে রবার্ট মুলারকে বরখাস্ত করার উদ্যোগ থামানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তাকে বরখাস্ত করা হলেই বিলটি সচল হতে পারে এবং তিনজন বিচারকের প্যানেল এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিতে পারেন।
নির্বাচনে সাড়ে ১২ কোটি মার্কিনির কাছে হিলারিবিরোধী বিজ্ঞাপন রাশিয়ার : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে জোর প্রচারণা চালিয়েছে রাশিয়া। গত দুই বছরে রাশিয়া থেকে পোস্ট করা বহু স্ট্যাটাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে বড় এ মাধ্যমটির দেয়া তথ্যমতে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও পরে রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে ৮০ হাজারের বেশি পোস্ট যুক্ত করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ পোস্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভেদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোতে রাশিয়ার প্রভাব কতটা- এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানির আগে ফেসবুকে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গুগল এবং টুইটারও এ শুনানিতে অংশ নেবে এবং তারাও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে সিনেটকে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে কথা বলছে সিনেট ইনভেস্টিগেশন কমিটি। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ জোর গলায় প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া।
চলতি বছরের জানুয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মতৈক্যে পৌঁছায় যে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে তারা হিলারির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। হিলারি ও ডেমোক্রেটিক পার্টির ই-মেইল এবং ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার আঁতাত নিয়ে তদন্ত চলছে।
রাশিয়ার পোস্ট নিয়ে ফেসবুকের প্রকাশিত তালিকা রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দুটি। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাশিয়ায় বসে ৮০ হাজার স্ট্যাটাস পোস্ট করা হয়েছে। ফেসবুকের দাবি, ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কোম্পানি এসব পোস্ট আপলোড করেছে। ফেসুবকে রাশিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে হুমকি হিসেবে দেখছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির জেনারেল কাউন্সেলর কলিন স্ট্রিচ। তিনি বলেন, এ হুমকি মোকাবেলায় যা যা করা প্রয়োজন, তাই করবে ফেসবুক।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ভিন্ন ভিন্ন ১৮টি চ্যানেল ব্যবহার করে ১ হাজারের বেশি ভিডিও রাশিয়া থেকে ইউটিউবে পোস্ট করা হয়েছে বলে সোমবার গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এদিকে, টুইটার বলছে, রাশিয়াভিত্তিক ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি টুইটারে ২ হাজার ৭৫২টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে বলে তারা সন্দেহ করছে। টুইটারের ওই অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।