ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তে এবার ‘গ্র্যান্ড জুরি’

0
69

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: নতুন মোড় নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পশিবিরের রাশিয়া সংযোগ তদন্ত।

স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার এ তদন্তের জন্য গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেছেন। ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তকারী মুলার তদন্তের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড জুরি ব্যবহার শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।

মুলারের এ পদক্ষেপ এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগসাজশের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তিনি আরও কঠিন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারেন।

রাশিয়ার এক আইনজীবীর সঙ্গে গত বছরের জুনে ট্রাম্পপুত্র ডোনাল্ড জুনিয়র ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের বৈঠকের বিষয়ে জানতে গ্র্যান্ড জুরির পক্ষ থেকে সমন জারি করা হয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার মতো যথেষ্ঠ প্রমাণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়। গ্র্যান্ড জুরি একটি তদন্ত দল, যাদেরকে তদন্ত ক্ষমতা দেয়া হয়। একটি জুরিতে ৬ থেকে ২৩ জন সদস্য থাকতে পারেন। এর সদস্যরা গোপনে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন এবং যে কাউকে সাক্ষ্য ও দলিলপত্র হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে পারেন। তবে বিচারকদের নিয়ে গঠিত জুরির মতো তারা অভিযুক্তকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে পারেন না। গ্র্যান্ড জুরি সাধারণত গোপনে বৈঠকে বসে।

গ্র্যান্ড জুরি গঠনের মাধ্যমে রবার্ট মুলারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কাউন্সিল গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে ধারণা মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, মুলারের তদন্তকারীরা পূর্ব ভার্জিনিয়া জেলায় একটি গ্র্যান্ড জুরি ব্যবহার শুরু করেছেন। এর আওতায় কয়েকটি সমনও জারি করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি গ্র্যান্ড জুরির মধ্যে ওয়াশিংটনেও একটি গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেছেন মুলার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুলার যে তদন্তের প্রক্রিয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এটা তার প্রমাণ। এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে নিজের পছন্দমতো তদন্তকারীও নিয়োগ দিয়েছেন।

‘ট্রাম্পকে জেতাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া’ গত বছর থেকে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে এ বছরের মে মাসে মুলারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কাউন্সিল গঠন করা হয়। এরই ধারবাহিকতায় এই গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু গ্র্যান্ড জুরিগুলো গোপনীয় বিষয়। তাই এ ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এমনকি মুলারও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এই মুহূর্তে মুলার ট্রাম্পের পুত্র, জামাতা ও পল ম্যানাফোর্ট নামে ট্রাম্পের এক সহযোগীর রুশ আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তদন্ত করছেন। ট্রাম্পশিবিরের কেউ ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণার ব্যাপারে স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করতে রুশ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষ কাউন্সেল মুলার। রুশ আইনজীবীর সঙ্গে পুত্রের বৈঠকের কথা ট্রাম্প জানতেন কিনা বা এ ব্যাপারে তাকে জানানো হয়েছিল কিনা তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, রুশ সংযোগের অন্যতম তদন্তকারী সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে বরখাস্ত করে ট্রাম্প ন্যায়বিচারে বাধা সৃষ্টি করেছেন কিনা সেটাও তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পে শিবিরের সম্ভাব্য যোগসাজশ তদন্তের কারণে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন মুলার। আর সে কারণেই বিশেষ কাউন্সেল মুলারকে রক্ষায় বৃহস্পতিবার দ্বি-দলীয় সমর্থনপুষ্ট একটি বিল উন্মোচন করেছেন কংগ্রেসের দুই সিনেটর। ডেমোক্রেট সিনেটর ক্রিস কুনস ও রিপাবলিকান থম টিলিস এই বিলটি উত্থাপন করেন।

এএফপি জানায়, বিলটি কোনো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ছাড়া বিশেষ কাউন্সেলকে সরাসরি বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্ট বাধা দেবে। কোনো কারণ ছাড়াই বরখাস্ত হলে এ ব্যাপারে মুলার আদালতে তার বরখাস্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘পুরো বানোয়াট’ অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে আবার নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ জানে আমাদের নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়ার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আমরা রাশিয়ার কারণে জয়লাভ করিনি। আমরা আপনাদের কারণে জিতেছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here