ট্রাম্পের ব্রেক্সিট বোমার বিস্ফোরণ

0
32

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার আর শত্রুর দরকার হয় না। এই আপ্তবাক্যটিই আরেকবার প্রমাণিত হল। প্রমাণিত হল যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের ‘বিশেষ মিত্র’ ব্রিটেনের ক্ষেত্রে।

ব্রিটেন সফরের দ্বিতীয় দিনে তারই প্রমাণ মিলল। ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হওয়ার প্রক্রিয়া) ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র যখন নাজুক অবস্থা তখন সেই ব্রেক্সিট নিয়েই এক বোমা ফাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিএনএনের।

মিডিয়া মোগল খ্যাত রুপার্ট মারডকের পত্রিকা দ্য সানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেক্সিট নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ব্রেক্সিটের ব্যাপারে তার উপদেশ অগ্রাহ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা।

তেরেসার পরিকল্পনা সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নাও করতে পারে। এর পরিবর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পথে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রেক্সিটের শুরু থেকেই তেরেসা সবসময়ই দাবি করে আসছেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিকল্পনায় তাদের বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। তেরেসার সঙ্গে নৈশভোজের সময় দৈনিক সানের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ব্রাসেলসে থাকাকালে ট্রাম্প এ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন।

সাক্ষাৎকারে সদ্য পদত্যাগ করা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুবই ভালো কাজ করবেন বরিস জনসন। তিনি বলেন, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সব যোগ্যতাই দেখতে পাই আমি। তিনি বলেন, তিনি এক্ষুনি ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে যেতে চাচ্ছেন না কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি।

সুতরাং ব্রেক্সিট সম্পন্ন হলে ব্রিটেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হবে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুদিন ধরে একটি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির স্বপ্ন দেখে আসছিলেন তেরেসা। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তেরেসার সেই ‘আশার গুড়ে বালি’ ঢেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারটিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর ‘টর্নেডোর আঘাত’ হিসেবেও দেখছেন অনেকেই।

শুক্রবার বিকেলে তেরেসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক বিশেষ স্তরের শীর্ষে রয়েছে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে বর্তমানে কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছেন তেরেসা।

এ ইস্যুতে এক সপ্তাহের মধ্যে একে একে তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পদত্যাগের পর তার রাজনৈতিক ভাগ্য যেন ঝুলে আছে। যেকোনো সময় তা খসে পড়তে পারে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে শুধু ঝড় বললে ভুল হবে, বলা যায় ঘূর্ণিঝড় বইছে।

এমন পরিস্থিতিতে যেখানে বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে ট্রাম্পের এমন এক মন্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতির সেই ঘূর্ণিঝড়ের গতি আরও বাড়িয়েছে। শুধু ব্রিটেনেই নয়, এমন বিস্ফোরক মন্তব্য বরাবরই করে আসছেন ট্রাম্প।