ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

0
64

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মুহূর্তে এশিয়া সফরে রয়েছেন সেই সময় ভার্জিনিয়া এবং নিউজার্সির ভোটে ভরাডুবি ঘটেছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পর জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে অকৃতকার্য হয়েছেন ট্রাম্প। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভার্জিনিয়া ও নিউজার্সির শহর ও শহরতলিগুলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।

একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে মার্কিন কংগ্রেসে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে রাজ্য দুটির কলেজ পড়ুয়া শিক্ষিত ভোটের ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর জনগণ রিপাবলিকান পার্টিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয় বুধবার। এতে ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী র‌্যালফ নর্থহ্যাম।

তিনি হারিয়েছেন রিপাবলিকান এড গিলেসপিকে। আর নিউজার্সিতে রিপাবলিকান প্রার্থী কিম গুয়াডাগনোকে হারিয়ে গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিপ মারফি। এটা সেই নিউ জার্সি, যা ২০১০ সাল থেকে গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টির নেতৃত্বে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সুইং স্টেট বা তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্য ছিল ভার্জিনিয়া।

শেষ পর্যন্ত সামান্য ব্যবধানে হিলারিকে পরাজিত করেন ট্রাম্প। কিন্তু সে নির্বাচনের এক বছরের মাথায় এবার সেখানে গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয় হল ডেমোক্রেটিক প্রার্থী রালফ নর্থহ্যামের কাছে। নিউইয়র্ক সিটির মতো শহর ও শহরতলি থেকে শুরু করে সিয়াটলের বাইরে উচ্চ-প্রযুক্তির অঞ্চলগুলো পর্যন্ত ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিয়েছে।

উভয় দলের নেতারাই বলছেন, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য একটা নির্ভুল বিপদ সংকেত। কেননা কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ এই দুই রাজ্যের বড় শহরগুলোর সামাজিকভাবে মধ্যপন্থী ও বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর জনগণের ওপর নির্ভর করবে। পেনসিলভানিয়া রাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চার্লি ডেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভোটারদের বিরাট ক্ষোভ রয়েছে। আর রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে সেই ক্ষোভ তারা শুধু ব্যালটের মাধ্যমেই প্রকাশ করতে পারে।

এর আগে ওয়াশিংটন রাজ্যে এক বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। এই জয়ের মাধ্যমে রাজ্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। ফলে ওয়েস্ট কোস্ট তথা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত ডেমোক্রেটদের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এমনকি সর্বদক্ষিণের রাজ্য জর্জিয়াতে ডেমোক্রেটরা দু’টি আসন দখল করে যেখানে আগে তারা কোনো প্রার্থীই দিতে পারত না। অন্যদিকে আটলান্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বাকহেডে একটি সিনেট আসন ডেমোক্রেটদের দখলে এসেছে। এদিকে পরপর তিন নির্বাচনে জয় পাওয়ায় ডেমোক্র্যাট শিবিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের আগে এ তিন নির্বাচনে জয় পাওয়ায় আশান্বিত ডেমোক্রেটরা।

কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কিছু আসনে নির্বাচন হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে। তাতে যদি ডেমোক্রেটরা ভালো ফল করে, তাহলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে রিপাবলিকানরা। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চরম চাপের মুখে পড়বেন এবং তাকে অভিশংসন করার সুযোগও হাতে আসবে ডেমোক্রেটদের।

তবে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেমোক্রেট পার্টি এখনও বেশ প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে। শহরতলিতে ডেমোক্রেটদের পক্ষে যে জনজোয়ার যদি তাদের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সহায়তা করেও সিনেটের আসনগুলোতে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

কেননা সিনেটের আসনগুলো ব্যাপকভাবে রক্ষণশীল এবং সেখানে ট্রাম্পের প্রতি জনগণের মনোভাব অনেকটা ইতিবাচক। এ যাবৎ মাত্র দুটো রিপাবলিকান সিনেট আসন কার্যত শূন্য হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে অ্যারিজোনায় যেখানে সম্প্রতি সিনেটর জেফ ফ্লেক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যটি হচ্ছে নেভাদার সিনেটর ডিন হেলারের। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডেমোক্রেট প্রার্থীরা সম্ভবত কম জনপ্রিয় ডেমোক্রেট সংখ্যালঘুদের নেতা ন্যান্সি প্যালোসি ও দলের উদার নীতিকে কেন্দ্রকে রিপাবলিকান পার্টির আক্রমণের মুখে পড়বেন। এই বিষয়গুলোই ডেমোক্রেটদের বিভিন্ন মহলে বিভাজনের সৃষ্টি করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here