ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবারও লাখ লাখ নারীর বিক্ষোভ

0
83

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কয়েক লাখ নারী বিক্ষোভ করেছে। এতে যোগ দিয়েছেন তাদের পুরুষ সমর্থকরাও। হোয়াইট হাউসে টালমাটাল এক বছর কাটানোর পর মেয়াদের দ্বিতীয় বছরের শুরুতেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ট্রাম্প।

গত বছর অভিষেকের পরদিনও নারীদের বিশাল বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেন তিনি। সেসময় প্রায় বিশ্বেই এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই বিক্ষোভের বর্ষপূর্তিতে শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় আড়াইশ’ শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেয়া বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে নারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারী নারীরা তাদের স্লোগানে বলেন, নারীরাই বদলে দেবে বিশ্ব। খবর রয়টার্সের।

ডেমোক্রেট দলের সমর্থকরা ছাড়াও অভিনেত্রী, লেখিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার নারী-পুরুষ এসব বিক্ষোভে অংশ নেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেয়া বিভিন্ন নীতি নারীদের আঘাত করছে মন্তব্য করে তারা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দিতে জনগণের প্রতিও আহ্বান জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেসের র‌্যালিতে অংশ নেয়া অভিনেত্রী ইভা লংগোরিয়া বলেন, আপনার ভোটই আপনার অবস্থানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। যাদেরই ভোটের অধিকার আছে তাদেরই উচিত তা প্রয়োগ করা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও নারীদের এমন বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এক টুইটারে বলেছেন, তার মেয়াদের প্রথম বছর নারীরা অনেকভাবেই সুবিধা পেয়েছেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ দেশটিতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশ বললেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ৩.৭ শতাংশ বলে জানায়।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন এর উল্টোটা। টেনেসির নক্সভিল থেকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৩৯ বছর বয়সী আইনজীবী কেটি ও’কনর বলেন, আমি চাই ট্রাম্প পদত্যাগ করুন। এ প্রশাসন নারীদের জন্য ভালো কিছু করবে এমনটা বিশ্বাস করি না।’

নারীদের নিয়ে ট্রাম্পের করা উল্টোপাল্টা মন্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে এদিন বিক্ষোভগুলোতে অংশ নেয়া অসংখ্য নারী ‘পুসি হ্যাট’ পরে আসেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বছর নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে ওঠা এই টুপি ট্রাম্পবিরোধীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গত বছরের শেষ থেকে যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হওয়া ‘মি টু হ্যাশট্যাগ’ ও ‘টাইমস আপ’ প্রচারণার মধ্যেই শনিবারের এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হল। বিক্ষোভে অংশ নেয়া বক্তারা নারীর প্রতি হয়রানি রুখে দাঁড়ানোরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের মধ্যে কেবল লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভেই প্রায় ছয় লাখ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন বলে শহরটির মেয়র এরিক গারসেটি জানিয়েছেন। শিকাগোর গ্র্যান্ট পার্কে বিক্ষোভেও দুই থেকে তিন লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ওয়াশিংটনের জমায়েত গতবারের চেয়ে কম হলেও এদিনের বিক্ষোভে ডেমোক্রেট পার্টির অনেক নেতাকে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও সমান বেতনের সুরক্ষা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের রক্ষণশীল নীতি অনেক নারীকেই বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। যে কারণে পুরুষদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা অপরিবর্তিত থাকলেও নারীদের মধ্যে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। নারী মিছিলের আয়োজকরা জানান, তারা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পবিরোধী ১০ লাখ নতুন ভোটার নিবন্ধনেরও চেষ্টা করছেন।