ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন মাত্র ৮০ টাকা!

0
108

trumআন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে মাত্র এক ডলার অর্থ্যাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ টাকা বেতন নেবেন। নির্বাচনে প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক চার লাখ ডলার বেতন তিনি গ্রহণ করবেন না। এমনকি এক সেন্টও বেতন হিসেবে নেবেন না। কিন্তু আইন অনুযায়ী তাকে নামমাত্র বেতন তুলতেই হবে। এ জন্য বছরে তিনি মাত্র এক ডলার বেতন নেবেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সিবিএস-এর ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এমন ঘোষণা দিয়েছেন। লন্ডনের অনলাইন সানডে এক্সপ্রেস-এ প্রতিবেদন

আগামী ২০শে জানুয়ারি ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এরপর বছরে তিনি বেতন নেবেন এক ডলার। নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই তার প্রথম সাক্ষাতকার। এতে তিনি আরও কিছু নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তিনি ২০ থেকে ৩০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইস্যুতে কিছুটা শিথিলতা দেখাবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দেয়াল নির্মাণ করবেন। বাকি সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করবেন। এ সাক্ষাতকার প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নেয় মিডিয়া বিশ্ব। ম্যানহাটানে নিজের বাসায় বসে সিবিএস নিউজের লেসলি স্টালকে ওই সাক্ষাতকার দেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বেশ কিছু বিতর্কিত ইস্যুতে কথা বলেছিলেন। তা নিয়ে বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকে পূর্বাভাস করেন, তিনি যদি তার আগের অবস্থানে অটল থাকেন তাহলে তা হবে বিপর্যয়কর। এ অবস্থায় কিছু কট্টরনীতি থেকে তিনি ফিরে আসার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ওবামাকেয়ার অন্যতম। তার এই শিথিল অবস্থানের জন্যও বেশ সমালোচিত হচ্ছেন। তিনি জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধমুলক রেকর্ড আছে এমন কমপক্ষে ৩০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওই সাক্ষাতকারে। তবে এর বাইরে রয়েছেন ৯০ লাখ থেকে এক কোটি কাগজপত্রবিহিন (আন-ডকুমেন্টেড) অভিবাসী। তাদের বিষয়ে তার পরিকল্পনা কি তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেন নি। এর পরিবর্তে তিনি ‘সীমান্ত নিরাপদ’ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

বলেছেন, অন্য প্রতিশ্রুতিগুলোতে হাত দেয়ার আগে সীমান্ত নিরাপদ করা প্রয়োজন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যাওয়া হিলারি ক্লিনটনকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও খুব স্মার্ট নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারির প্রাইভেট ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করার বিষয়টি অনুসন্ধানে একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়ার কথা এড়িয়ে যান নি। ট্রাম্প বলেন, তারা খুব ভাল মানুষ। আমি তাদেরকে আঘাত করতে চাই না। পরের বার যখন ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে আমরা একত্রিত হবো তখন আমি আপনাকে এ বিষয়ে খুব ভাল ও সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারবো। ওদিকে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি পপুলার ভোট বেশি পেয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট বেশি পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকটা এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। এসব বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হতে পারে ক্রমবর্ধমান ‘হেট-ক্রাইম’ বা ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ। এর মধ্যে রয়েছে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা। হিজাব পরে মাথা ঢেকে রাখা মুসলিম নারীদের অবমাননা।

স্প্রে ব্যবহার করে গাড়ির ওপর স্বস্তিকা চিহ্ন এঁকে দেয়া সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। এ খবর তার কানে পৌঁছালে ট্রাম্প বলেন, এ খবর শুনে তো আমি খুব বিস্মিত। আমি মনে করি এসব ঘটছে খুব কম পরিমাণে। এসব কথিত অপরাধ সংগঠনকারীদের সম্পর্কে তার কিছু বলার আছে কিনা? এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন লেসলি স্টাল। এর জবাবে ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এসব থামাও। ওই অনুষ্ঠানে লেসলি স্টাল আরও সাক্ষাতকার নেন ডনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, তাদের সন্তান ইভানকা, টিফ্ফানি, এরিক ও ডনাল্ড জুনিয়রের। এ সময় ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার প্রশংসা করেন মেলানিয়া। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরে হোয়াইট হাউজে গিয়েছিলেন তারা। সে সময় মেলানিয়াকে আপ্যায়ন করেন মিশেল ওবামা। সে সম্পর্কে মেলানিয়া বলেন, মিশেল ওবামা একজন উদার অতিথিপরায়ণ। নির্বাচনে নারী ইস্যুতে বিভিন্ন নানা সমালোচনা হলেও তাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো কথা হয় নি। হোয়াইট হাউজে কিভাবে সন্তানদের লালন পালন করতে হয় তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here