ট্রাম্পের থেকে ৮ শতাংশ বেশি সমর্থন হিলারির

0
258

trump_125651আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে চাপানউতোরের সুর ততোই বাড়ছে। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময়ই কড়া ভাষায় কথা বলেন। এবার সুর চড়ালেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করলেন, সচরাচর যা তিনি করেন না। ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ৫৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। হিলারি তো বটেই, কৃষ্ণাঙ্গ থেকে মুসলিম, বিভিন্ন প্রেক্ষিতে তার কঠোর ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছে ‘অগণতান্ত্রিক’। হিলারিকে শয়তান বলতেও দুবার ভাবেননি নিউইয়র্কের এই ধনকুবের। এ জন্য কড়া সমালোচনার মুখেও পড়েছেন ট্রাম্প। সেই তুলনায় অনেক সংযত হিলারি। কিন্তু ভোটের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও সুর চড়াচ্ছেন।

সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায়, এখনও ট্রাম্পের থেকে ৮ শতাংশ বেশি ভোটারের সমর্থন রয়েছে হিলারির। বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করলেও রিপাবলিকান প্রার্থী মার্কিনীদের মন জয় করতে পারেননি। কাজে আসেনি তার ‘ঘৃণা ছড়ানোর’কৌশল৷ সেজন্য বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সম্প্রতি দুঃখপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে সরাসরি ভোট প্রার্থনা করেছেন ট্রাম্প৷ কিন্তু হিলারি তাকে জমি ছাড়তে চাইছেন না। ট্রাম্পের বর্ণবিদ্বেষী চরিত্রকেই কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন হিলারি৷নেভাডায় রেনোয় কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বাচনী সভায় হিলারি বলেন, ‘ট্রাম্প চরম বর্ণবিদ্বেষী৷ জাতিভেদ তৈরি করতে ঘৃণা ছড়ান৷এটাই তার ইতিহাস। এ কাজের জন্য তিনি অনুতপ্তও নন।’

হিলারিকে এর আগে এত কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে শোনা যায়নি৷ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি বলেন,’নিজের ক্যাসিনোতে কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরি দিতেন না ট্রাম্প। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের বঞ্চিত করেছেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।’

ট্রাম্পকে চরম দক্ষিণপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে হিলারি বলেন, ‘এই শক্তি রিপাবলিকান পার্টিকে দখল করে নিয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির যে দর্শনের কথা আমরা জানি, এটা তার সঙ্গে মেলে না।’

রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশকে নিজের দিকে টানতে চান হিলারি। সেই লক্ষ্যেই তাঁর এই মন্তব্য৷ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর ভাষায়,’ট্রাম্পের ভাবনা বর্ণবিদ্বেষ ছড়ায়৷ তিনি নারী বিরোধী, মুসলিম বিরোধী। এমন ব্যক্তির হাতে দেশ চালানোর ভার দেয়া যায় না৷ এ ধরনের মানুষকে সেনার সর্বোচ্চ কমান্ডার করাও যায় না।’

হিলারির সভা শেষ হওয়ার পরই ট্রাম্পের টুইট, ‘হিলারি অনৈতিক কথা বলেছেন। এটা সমাজের ক্ষতি করবে৷ হিলারির নিজের সম্পর্কে লজ্জিত হওয়া উচিত।’ টেলিভিশন সাক্ষাতকারে রিপাবলিকান প্রার্থী বলেন, ‘হিলারির নীতি অসহিষ্ণু৷ তার কৌশল কাজে আসবে না।’

জনসভায় ট্রাম্পের তোপ,’মুসলিমদের সম্পর্কে অনেক কথা বলছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এ সব তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য৷ আদতে তিনি মুসলিমদের জন্য কিছুই করেননি।’