ট্রাম্পকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ব্রিটিশ তরুণ গ্রেফতার

0
312

trump kill10জন্মভূমি প্রতিবেদক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় এক ব্রিটিশ তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাইকেল ষ্টিভেন স্যান্ডফোর্ড নামক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার লাস ভেগাসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণাকালে স্যান্ডফোর্ড এক পুলিশ সদস্যের পিস্তল ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।

তখন তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার নেতাদার ফেডারেল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হলে ফেডারেল আদালত স্যান্ডফোর্ডকে ‘সমাজের জন্য তিকর’ উল্লেখ করে ৫ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করছেন যে, স্যান্ডফোর্ড একজন ব্রিটিশ নাগরিক। জানা গেছে, পুলিশের পিস্তল কেড়ে নিয়ে তিনি ট্রাম্পকে গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। স্যান্ডফোর্ড এক তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, এক বছর ধরে তিনি ট্রাম্পকে হত্যা করার কথা ভাবছিলেন। এবার তা করার ব্যাপারে নিজের ওপর বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের উসকানিতে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে রয়টার্স জানায়, প্রায় তিন মাস আগে সারাহ ইব্রাহিমের ফোর্থ গেডে পড়া ছেলে স্কুল থেকে ফিরে এসে মাকে হতভম্ব করা একটি প্রশ্ন করে। মাকে সে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমাকে ফেরত পাঠানোর আগে আমি কি তোমাকে গুডবাই বলার সময় পাবো?’ যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থার কাজ করেন সারাহ। তিনি একজন আরব আমেরিকান মুসলিম। ৩৫ বছর বয়সী এই মা জানান, তার সন্তানের ক্লাসের বাচ্চার আলোচনা করছিল ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে কাকে কাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে?’ ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান বের্নারডিনোতে এক মুসলিম দম্পতির গুলিতে ১৪ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো মুসলিম অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় এবং মসজিদগুলোতে আরো নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

এর কয়েক মাস পরই উপরে বর্ণিত ঘটনাটি ঘটে। এরপর গত সপ্তাহে ফোরিডার অরল্যান্ডোর সমকামী নৈশকাবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া এক মুসলিম ব্যক্তির গুলিতে ৪৯ জন নিহত হলে ট্রাম্প তার মুসলিম-বিরোধী কথাবার্তা আরো তীব্র করেন। এবার তিনি ‘সন্ত্রাসের প্রমাণিত ইতিহাস আছে’ এমন দেশগুলো থেকে অভিবাসী নেয়া স্থগিত করার প্রস্তাব দেন।

মেয়ের চাপে উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প?
নিজের বিতর্কিত নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক কোরি লেওয়ানডাউস্কিকে ডোলাল্ড ট্রাম্প বরখাস্ত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে অনেকেই বিস্মিত। কেননা লেওয়ানডাউস্কিকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দলের কয়েকজন নেতা সক্রিয় থাকলেও তাঁর ওপর ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আস্থা ছিল।

জানা গেছে, রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্পের আস্থাভাজন বলেই লেওয়ানডাউস্কিকে সরানোর ক্ষেত্রে দলের নেতাদের দেনদরবার কাজে আসছিল না। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা এ নিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলেন। বাবাকে ইভানকা জানিয়ে দেন, লেওয়ানডাউস্কিকে না সরালে তিনি নিজে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আর যুক্ত থাকবেন না। এরপর ট্রাম্প গত সোমবার ওই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতে দূর্বল ও অপেশাদারি প্রচার চালানো জন্র ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দলের নেতৃত্বের কাছে সমালোচিত হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে সংগঠন ও চাঁদা সংগ্রহের ব্যাপারেও তিনি প্রতিবন্ধী ডেমোক্রেটিক পার্টিও হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় বিস্তর পিছিয়ে। এ অবস্থায় নির্বাচনী কমিটির একজন প্রধান ব্যবস্থাপককে বরখাস্তের ঘটনাকে অনেকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।
তরুণ লেওয়ানডাউস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টা পল মানাফোর্টের বেশ আগে থেকেই বিবাদ চলছিল। লেওয়ানডাউস্কি নিজেকে ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ একজন হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিত করার চেষ্টায় ছিলেন। ইতিপূর্বে কোনো বড় রাজনৈতিক প্রচার ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা নেই, এ যুক্তি দেখিয়ে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির প্রধান রিন্স প্রিবাস লেওয়ানডাউস্কিকে মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মানাফার্টও সে দাবিই করছিলেন।