টাইফুনের তাণ্ডবে দক্ষিণ চীনে মৃতের সংখ্যা ১২

0
64

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: প্রলয়ঙ্করী টাইফুন ‘হাতো’র আঘাতে বুধবার দক্ষিণ চীনে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে হংকংয়ের নিকটবর্তী ম্যাকাও শহরে আট জন ও চীনের মূল ভূখণ্ডে মারা গেছে আরও চারজন। এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চীনের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ২৭ হাজার লোককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে একজন।

হাতোর কারণে দক্ষিণ চীনের উপকূলবর্তী এলাকায় অফিস-আদালত, শপিংমল ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বাতিল করা হয়েছে অন্তত ৪৫০টি ফ্লাইট। বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচলও। দেশটির সরকারি তথ্য ব্যুরোর বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার সকালের পর ৬০ কিলোমিটার বেগে এ তাইফু হংকং পেরিয়ে চীনের গুয়াংডং প্রদেশের ঝুহাই শহরের কাছ দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে। এ সময় প্রচণ্ড বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক গাছপালা উপড়ে যায়। রাস্তা থেকে দ্রুত মানুষজন সরে যেতে থাকে। জলোচ্ছ্বাসে হংকংয়ের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয় ও বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, টাইফুনের প্রভাবে দক্ষিণ চীনের উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট গলাপানিতে ডুবে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছপালা উপড়ে যায়। উপকূলে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে বহু রাস্তা বিপর্যস্ত হয়। প্লাবিত হয়েছে অনেক নিচু এলাকাও।

চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের আগে ওই এলাকা থেকে ২৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাতিল করা হয় ট্রেন সার্ভিস। চার হাজারের বেশি জেলে ও তাদের পরিবারকে উপকূল থেকে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবাভে ম্যাকাও থেকে ৪০ মাইল পর্যন্ত বন্যার পানি ঢুকে পড়লেও ওইসব এলাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হংকংয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয়। এটি চীনে ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, হাতোর আঘাতে হংকংয়ে একশ’ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here