জ্বর বা ফ্লুতে আক্রান্ত হলে যে খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা

0
170

jug and glass of milkবর্ষায় বেশিরভাগ মানুষই জ্বরে আক্রান্ত হয়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারা ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে নিজেও জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর কমানোর ঔষধের পার্শ্বপ্রিতিক্রিয়া ও দুর্বলতা কাটানোর জন্য ভালো খাবার খাওয়া প্রয়োজন। আবার কিছু খাবার থেকে দূরে থাকাও আবশ্যক। হ্যাঁ, জ্বরে আক্রান্ত হলে যে খাবারগুলো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা উচিৎ সে ব্যাপারে জেনে নিই চলুন।

১। দুধ

জ্বরে আক্রান্ত হলে অপাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করা উচিৎ নয়। কাঁচা দুধে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে তা দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের মানুষের জন্য বিপদজনক হতে পারে। এছাড়াও দুধ ফুসফুস ও সাইনাসে অনেক বেশি মিউকাস আবদ্ধ করে রাখে। এজন্য ফ্লু এর লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন যাবত থাকে। মিউকাস যে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি করে তার মধ্যে ভাইরাস বেশীদিন থাকতে পারে, ফলে লক্ষণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। তাই দুধের পরিবর্তে পানি ও ফলের রস পান করুন ফ্লু ভালো হওয়া পর্যন্ত। ফ্লু ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকলে ফুসফুস দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে। তাই দ্রুত নিরাময় লাভ করার জন্য পনির, দই ও আইসক্রিম জাতীয় খাবারের পরিবর্তে অন্য খাবার খান।

২। মাংস

মাছ, গরুর মাংস এবং লাল মাংসে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকে তাই হজমে সমস্যা হয়। এ কারণেই জ্বর থাকলে এগুলো খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে। যেকোন ধরণের মাংসের পরিবর্তে উদ্ভিজ খাবার যেমন- সবুজ শাকসবজির সালাদ ও ফল খান।

৩। ভাঁজাপোড়া খাবার

এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ভাঁজা খাবারে উচ্চমাত্রার ফ্যাট থাকে এবং একারনেই ভাঁজা খাবার খেলে ইনফ্লামেশন হতে পারে। এগুলো ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। স্ন্যাক্স হিসেবে চিপস ও ফ্রায়েড ফুড খাওয়া বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪। প্যাকেটের জুস

বাজারে অনেক ধরণের প্যাকেটজাত জুস পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলোতে চিনির পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যা সাদা রক্ত কণিকার অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে হ্রাস করে। তাই এগুলো না খেয়ে ঘরেই তৈরি করে নিন তাজা ফলের জুস।

৫। চা বা কফি

জ্বর হলে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় ফলে ডিহাইড্রেশনের সৃষ্টি হয়। চা এবং কফিও ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে। তাই জ্বরে এগুলো সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি একান্তই চা-কফি পান না করে থাকতে না পারেন তাহলে এগুলো পান করার পরে কয়েক গ্লাস পানি পান করুন হাইড্রেটেড থাকার জন্য।

৬। চিনিযুক্ত খাবার

‘ডায়েট ফর হেলথি লিভিং : ডা. লিন্ডা পেজে’স ন্যাচারাল সলিউশন টু আমেরিকা’স ১০ বিগেস্ট হেলথ প্রবলেমস’ এর লেখক ডা. লিন্ডা পেজ বলেন, “ফ্লু সৃষ্টিকারী   ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শরীরকে বাঁধা দেয় চিনি”।উচ্চমাত্রার চিনি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কেক, ক্যান্ডি ও কুকিজ জ্বরের সময় এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। উচ্চ ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন- ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং ফাস্টফুড ও না খাওয়াই ভালো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here