জেবিবিএ’র উপদেষ্টা পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন : সকল সদস্যের ঐক্য চাই, এক জেবিবিএ চাই

0
85

নিউইয়র্ক : জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক-এর ‘জিকো-তারেক’ নেতৃত্বাধীন কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ বৃহস্পতিবার থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে উপদেষ্টা পরিষদ জেবিবিএ’র ‘এডহক কমিটি’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আাগামী নির্বাচনের পর নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত এডহক কমিটি গঠনতন্ত্রের আলোকে দায়িত্ব পালন করবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেবিবিএ’র উপদেষ্টা পরিষদ উপরোক্ত তথ্য জানানোর পাশাপাশি ‘জিকো-তারেক’ নেতৃত্বাধীন কার্যকরী পরিষদের কর্মকান্ডকে অবৈধ, অগঠনতান্ত্রিক ও অসাংগঠনিক হিসেবে দাবী করে বলেন, কার্যকরী পরিষদ উপদেষ্টা পরিষদকে বহিষ্কার বা বিলুপ্ত করতে পারে না। জেবিবিএ’র গঠনতন্ত্রে কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক উপদেষ্টা পরিষদকে বহিষ্কার বা বিলুপ্ত করার কোন নিয়ম নেই। উপদেষ্টারা বলেন, বড় ধরনের কোন সমস্যা না হলে বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশনই এডহক কমিটির নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে এবং সবার সংশ্লিস্ট সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাছাড়া প্রয়োজনে আইনী ব্যাখ্যার জন্য আদালত পর্যন্ত যেতে হবে পারে এমন আভাস দিয়ে উপদেষ্টারা বলেন, তবে সবার আগে আমরা জেবিবিএ’র সকল সদস্যের ঐক্য চাই, এক জেবিবিএ চাই। খবর ইউএনএ’র।

সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেবিবিএ’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ কমিটির অন্যতম সদস্য কাজী মন্টু। এরপর মূল বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা মহসিন ননি। পরবর্তীতে জেবিবিএ’র বিদায়ী কমিটি কর্তৃক উপদেষ্টা পরিষদ বাতিল করা সহ সংগঠনের বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাখ্যা দেন কাজী মন্টু।

সাংবাদিক সম্মেলনে কাজী মন্টু তার লিখিত বক্তব্যে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন তথা জেবিবিএ’র পক্ষ আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জেবিবিএ’র প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আপনাদের সাথে জেবিবিএ’র সম্পর্ক নিবিড় ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভিত্তিক। জেবিবিএ’র প্রথম নির্বাচিত নির্বাহী কমিটিতে আমিও একজন সদস্য ছিলাম। জ্যাকসন হাইটস-এর বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সমৃদ্ধি ও সাফল্যে রয়েছে বাংলা মিডিয়াগুলোর অমূল্য অবদান ও প্রেরনা। বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস-এর ৭৩ ষ্ট্রীট সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও অভ্যাগতদের মিলনমেলা।

তিনি বলেন, আজ জেবিবিএ’র আরেকটি ক্রান্তিলগ্নে। ইতিপূর্বে সবার সাহায্য ও সহযোগিতায় আমরা অনেক সঙ্কটের মোকাবেলা করেছি। এবারও জেবিবিএ’র সাংবাদিক ধারা অব্যাহত রাখতে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয: ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দু’বছর মেয়াদী নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৭ ডিসেম্বর। ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শপথ নিয়েছিল সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কমিটি। সংবিধান নির্ধারিত দু’বছরের মেয়াদ াতিক্রান্ত হয়েছে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর। আমরা আপনাদের হাতে তুলে দেবো সাপ্তাহিক পরিচয়ের প্রকাশিত ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরে বিদায়ী নির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণের সংবাদ।

জেবিবিএ’র সংবিধান অনুসারে নির্বাচন করে একটি নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে বিদায়ী নির্বাহী কমিটি। তাই জেবিবিএ’র সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩-র ১০ ধারা অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক্যালি) ২৭ ডিসেম্বর রাত বারোটায় পর উপদেষ্টা পরিষদ আ্যড হক কমিটিতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং জেবিবিএ’র সকল নির্বাহী দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে অ্যাড কমিটির উপর। জেবিবিএ’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যাকসন হাইটস-এর বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জনাব মহসিন ননী অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন। অ্যাডহক কমিটির অন্যান্য চার সদস্য পিয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ রহমান, মোহাম্মদ মিয়া ও কাজী মন্টু। অ্যাড কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

কাজী মন্টু বলেন, জেবিবিএ’র এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা সশ্রদ্ধভাবে স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় সাইদ রহমান মান্নান ভাইবে। তিনি শুধু জেবিবিএ’র একজন অকৃত্রিম শুভার্থীই নন, তিনি জেবিবিএ’র দূর্যোগ সময়ের কান্ডারী। তার বলিষ্ট ও অবিসাংবাদিত নেতৃত্বে এবং অমায়িক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিংবদন্তী হয়ে থাকবে। অসুস্থ মান্নান ভাই’র রোগমুক্তির জন্য আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি। এই মূহুর্তে আমরা তাঁকে দারুণ ভাবে মিস করছি। তিনি শীত তীব্র হওয়ায় আমাদের আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি। তাবে আমাদের দোয়া করেছেন ও সাফল্য কামনা করেছেন।

কাজী মন্টু বলেন, বিদায়ী নির্বাহী কমিটির শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যক্তির ভূমিকা আপনাদের অজানা নয়। তাঁরা জেবিবিএ কে গত দু’বছর একটা নির্জীব-নিস্ক্রিয় সংগঠনে পরিনত করেছিল, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল সাধারণ সদস্যদের থেকে। তার আগে ওরা জেবিবিএকে বিভক্ত করে কায়েদা লুটেছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে জেবিবিএকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সমর্থ হই। আমাদের উদ্যোগের ফলেই ওরা দু’বছরের জন্য ঐক্যবদ্ধ জেবিবিএ’র নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। সংবিধান অনুসারে নির্বাহী কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গঠিত হয়েছিল উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা মিলত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে মহসিন ননীকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে এবং লিখিত ভাবে নির্বাহী কমিটিতে জানানো হয়।

বিদায়ী নির্বাহী কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেপরোয়াভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করতে থাকে এবং স্বেচ্ছাচারের আশ্রয় নেয়। নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য ওদের স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। কিন্তু বরাবর আমরা নিরব ছিলাম। আমরা ওদের সংবিধান লঙ্ঘন ও ব্যর্থতা সম্পর্কে আমাদের প্রতিক্রিয়া কখনো ব্যক্ত করিনি। ওরা শুধু সংবিধান লঙ্ঘন করেনি, ওরা উপদেষ্টা পরিষদকে জেবিবিএ’র একটা সংবিধানিক অঙ্গ হিসাবে কখনো আমলে নেয়নি।

যাদের ভোটে ওরা নির্বাচিত হয়েছিল, তাদের ওরা জঘন্য ভাবে উপেক্ষা করে। তাইতো ওরা সংবিধান অনুসারে অবশ্য করনীয় সমূহ এগিয়ে যায়। এই ব্যাপারে কিছু বরতে গেলে ওদের দৃষ্টিতে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়েছে। সংবিধান অনুসারে প্রতিবছর সাধারণ সভা করার কথা। সাধারণ সভা করতে ওদের অনীহা আপনার সবাই জানেন। সদস্যদের চাপে অবশেষে যেনতেন প্রকারে একটা সাধারণ সভা ডাকলেও শেষ পর্যন্ত ভন্ডুল করে দেয় সাধারণ সভা। ওরা চরম ব্যর্থতা পরিচয় দেয় নির্বাচনের আয়োজন করতে। সংবিধান অনুসারে ওদের মেয়াদকালে নির্বাচন করে নতুন নির্বাহী কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা। তা না করে বরং চক্রান্তের আশ্রয় যায় ওরা। নির্বাচনে পরিবর্তে মেম্বারশীপ কর্ম বিতরণ ও সংগ্রহে বেশী মনোযোগী হয়। কারণ মেম্বারশিপ কর্মের সাথে প্রদত্ত ১০০ ডলার ফি’র ব্যাপারে ওদের বেশী আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। ওদের নেতৃত্বে গ্রহণকালে আমরা অর্থাৎ তৎকালীন অ্যাডহক ওদের হাতে ২২,৭০০ ডলার তুলে দিয়ে এসেছিল এবং জেবিবিএ’র ফান্ডে ছিল ৯০০ ডলার। এখন শুনি জেবিবিএ’র অপরিশোধিত ঋণ রয়েছে অনেক।

কাজী মন্টু বলেন, বিদায়ী নির্বাহী কমিটির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ফলশ্রুতিতে সংবিধান নির্দিষ্ট পন্থায় উপদেষ্টা পরিষদ অ্যাডহক কমিটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এটা কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা দয়ার ফসল নয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, জেবিবিএ’র বিদায়ী কমিটি গঠনতন্ত্র না পড়ে, না বুঝেই এমনকি গঠনতন্ত্রের অনেক ইংরেজীর অর্থ না বুঝেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা হাস্যকরও বটে। তারা বলেন, বিদায়ী কার্যকরী পরিষদের আর্থিক বিষয়ে অনিয়ম থাকায় তারা উপদেষ্টা পরিষদের কোন পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সঠিক হয়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে মহসিন ননি, কাজী মন্টু ও মোহাম্মদ রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং উপদেষ্টা পিয়ার মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ মহসিন উপস্থিত ছিলেন।সাংবাদিক সম্মেলনে উপদেষ্টারা জেবিবিএ’র কার্যকরী পরিষদের বিলুপ্ত, বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক উপদেষ্টা পরিষদকে বাতিল বা বাহিষ্কার, নির্বাচন কমিশন গঠন, সদস্য নবায়ন, গঠণতন্ত্রের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন ও তাদের ক্ষমতা এবং করণীয় বিষয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টারা বলেন, জেবিবিএ’র আর্থিক হিসাব-নিকাশ বিদায়ী কোষাধ্যক্ষের সহযোগিতায় উপদেষ্টা পরিষদ তথা এডহক কমিটিই দেখভাল করবে এবং প্রয়োজনে সদস্য নবায়নের সময় বৃদ্ধি এবং আবেনগুলো যাছাই-বাছাই করা হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ‘জিকো-তারেক’ নেতৃত্বাধীন কমিটি কর্র্তৃক এই উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here