জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

0
59

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ স্বাধীনের পর স্বল্প সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যখন দেশবাসীকে ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন- ঠিক তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা দুইবোন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যাই। জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেয়নি। তিনি ইনডেমনিটি অ্যাক্ট করে খুনীদের রক্ষা করেছেন; তাদের দেশে-বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওইদিন সবাইকে হারিয়েছি, আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের মাঝে বাবা-মার স্নেহ ভালোবাসা খুঁজে পাই। তাই সুখে-দুখে আপনাদের পাশে দাঁড়াই।

তিনি বলেন, বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি স্বত্ত্বেও দেশের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে; আরও করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন। হতদরিদ্রদের ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হবে।

শনিবার বিকালে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুদীপ কুমার রায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদারা মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাবতে অবাক লাগে একটি দলের নেত্রী মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করেন। আর তার স্বামী জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার বন্ধে আইন করেন।

চিহ্নিত খুনীদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। আমাদের দু’বোনকে ৬ বছর দেশে ফিরতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি করার পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেছি। সারাদেশ সফর করেছি। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের সেবা করাই আওয়ামী লীগ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। আপনারা মনোবল হারাবেন না। মনে রাখবেন, আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের উন্নতি হয়। তাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের চিন্তা করতে হয় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যমুনা, বাঙালি ও করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে তিনি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

ত্রাণ ও চারা বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি হেলিকপ্টরে ঢাকার দিকে রওনা হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here