জাহেদ সরওয়ারের কাব্যগ্রন্থ ‘সূর্যের নিচে শুধু ভয়’

0
146

জাহেদ সরওয়ারবই নিয়ে নিয়মিত আয়োজন ‘বই সমাচার’। এ বিভাগে আজ থাকছে জাহেদ সরওয়ারের সদ্য প্রকাশিত বই ‘সূর্যের নিচে শুধু ভয়’ নিয়ে আয়োজন।

প্রকাশনা তথ্য

আজ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছে কবি ও কথাসাহিত্যিক জাহেদ সরওয়ারের কাব্যগ্রন্থ ‘সূর্যের নিচে শুধু ভয়’। বইটি প্রকাশ করেছে চিত্রাঙ্গি। তিন ফর্মার বইটিতে কবিতা আছে মোট চল্লিশটি । মূল্য রাখা হয়েছে কলকাতায় ১৫০ রূপি আর বাংলাদেশের জন্য ২০০ টাকা। প্রচ্ছদ করেছেন প্রশান্ত সরকার। বইটির ফ্ল্যাপ লিখেছেন মার্কিন প্রবাসি কবি ও প্রাবন্ধিক কৌরব অনলাইনের সম্পাদক আর্যনীল মুখোপাধ্যায়।

লেখকের কলম

এটি আমার ৬নাম্বার কবিতার বই। ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালে ওরা আমার কবিতা পড়ে প্রস্তাব দেয়। আমি কবিতা পাঠাই। এই কবিতাগুলো আমার আগের কবিতার চেয়ে আলাদা। অনেক কবিই একই রকম ধারায় কবিতা লিখতে চান। আমি প্রতিটি কবিতার বইতে আলাদা আলাদা রকম কবিতা লিখতে চাই। আগের কবিতার বইয়ের সাথে এই  কবিতাগুলোর কোনো মিল নাই। আঙ্গিক একেবারেই আলাদা। খুব অল্পকথার কবিতা বলা যায় এদের।

সার সংক্ষেপ

সূর্যের নিচে শুধু ভয়। একসময় যখন মানুষ আগুন আবিস্কারেরও আগে রাতের বেলায় খুব ভয় পেত। তারা হয়তো বাসনা করতো কবে এইরাতের শেষ হবে। কবে সূর্য উঠবে। দিনের বেলায় তাদের শান্তি। তারা ভয়হীন। ফের রাত। ফের ভয়। কিন্তু এখন আগুন আবিস্কার হয়েছে। আমরা রাতেও আলো জ্বালাই। তবুও কি ভয় আমাদের ছেড়ে গেছে? কারণ ‘ভয়‘ বড় ব্যবসা। সরকার দেখায় ভয়। বিদেশ থেকে আমদানি হয় ভয়। এই ভয়ই যেন সূর্যের নিচের মৌল উপাদান। আরো নতুন নতুন রঙের ভয় আমাদের জীবনকে তটস্থ করে রেখেছে। এসব দেখে মনে হতে পারে সূর্যের নিচে শুধু ভয়।

বই থেকে পাঠ

চারটি কবিতা

শব্দগন্ধ

নিঃশ্বাসের সাথে আমরা
পড়ি শব্দের নামতা
শব্দে শব্দে তৈরি হচ্ছে
নিরন্তর পৃথিবী

ওরা বলেছে থেমে
গেলেই আমার মৃত্যু।
থামিনা। নাকমুখ থেকে
বের হয় অবিরাম শব্দগন্ধ

এভাবে বসবাস করি
শব্দ আর মৃত্যু নিয়ে

ইটভাটা

যে দিকে তাকাবে
শুধু ইট, শুধু ইট
বৃক্ষদের বিদায়
দিয়েছে শহর।
প্রকৃতি বলতে
দূরে তাকিয়ে আমরা
ইটভাটার চিমনির
ধোয়াকেই বুঝি
ওখানেই তৈরি হচ্ছে
অনাগত সন্তানদের আত্মা।

শব্দ-রুটি

আমরা চেয়েছিলাম
শব্দ-রুটি খেয়ে বাঁচতে
এখানে রুটি তৈরি
হচ্ছে বুলেটে
প্রতিবেশিদের কাছে
যা চেয়েছিলাম।-মরে গেছে
সে সব ভালোবাসা।
গ্যারেজের ছিটকে পড়া
মবিলের আয়নায়, যার যার
মুখ দেখে
কাটিয়ে দেব
একেকটা নার্সিসাস জীবন!

মেশিনগান

তারা চেয়েছিল দুইমলাটের  ভেতর
কিছু শব্দে জিতে নেবে  গ্লোবটাকে
কিন্তু ডিএনএর ছক অন্য।
শব্দরাশি পরিণত হয়েছে
কেবলি বাকোয়াজে
শেষে তারা উৎপাদক
হয়েছে  ভোদকা বা স্কচ
বা ঘাস আর চোলাইয়ের যোগানদার
বইভর্তি ঘরে বন্দি কয়েকজন বুদ্ধিজীবী
বাইরে সেলাই হচ্ছে নতুন পৃথিবী, কয়েকটি মেশিনগানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here