জার্মানিতে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের উত্থানে অস্বস্তি

0
77

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: গত বছর থেকে ইউরোপে চরম ডানপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিটের গণরায় ও যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।

তবে সাধারণ মানুষ, লিবারেল রাজনীতিক ও সংবাদমাধ্যমগুলো উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ডানপন্থীদের সাফল্যের রথ থেমে যায়।

বিশেষ করে ফ্রান্সে মারি লে পেনকে পরাজিত করে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা থমকে যায়।

কিন্তু রোববার জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী দল  অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) অভাবনীয় সাফল্যের পর ডান শিবিরে উল্লাস দেখা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম একটি চরম ডানপন্থী দল জার্মানির সংসদে প্রবেশ করল। শুধু ‘জনপ্রিয়’ ও ইউরোপবিরোধী হিসেবে এএফডি বা ‘জার্মানির জন্য বিকল্প’ দল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও নির্বাচনী প্রচারে দলের নেতারা বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী ও বিদেশি-বিদ্বেষী মন্তব্য করে জার্মানির রাজনৈতিক আঙিনায় গভীর অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের কালো অধ্যায়ের পর জার্মানিতে কীভাবে এমন এক দল এই মাত্রায় সাফল্য পেল? বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বেকারত্বের হার খুবই কম।

এর মানে হল ইউরোপের বাকি দেশের তুলনায় জার্মানির পরিস্থিতি অত্যন্ত উজ্জ্বল৷ এমনকি ২০১৫ সালে শরণার্থীর ঢল নামার ফলে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল, গত দুই বছরে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে৷ তা সত্ত্বেও এমন অসন্তোষ কেন?

এমন প্রেক্ষাপটে জার্মান নির্বাচনে সম্ভবত ১৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে সংসদে তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার পর তাই প্রশ্ন উঠছে- কারা এই দলের প্রতি এমন সমর্থন দেখিয়েছেন এবং তাদের এই ব়্যাডিকাল সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ কী?

অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এএফডির উত্থান ঠেকাতে মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলো সঠিক কৌশল গ্রহণ করেনি। এএফডির সম্ভাব্য সমর্থকদের মন বুঝে তাদের দলে টানতে ব্যর্থ হয়েছে তারা৷ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী,  অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল অনেক মানুষও এই দলকে ভোট দিয়েছে।

তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ, বাকি দলগুলোর প্রতি ভীতশ্রদ্ধ হয়ে এই দলকে ভোট দিয়েছে৷ অর্থাৎ এএফডির কর্মসূচির প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল না।

যেসব ভোটার এএফডির কর্মসূচিকে আকর্ষণীয় মনে করেছেন, তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ কী ছিল? শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবসর ভাতা, পরিবেশ ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এএফডি দলের স্পষ্ট অবস্থান নেই।

শরণার্থী ও অভিবাসীদের কারণে জার্মানির ‘মূল সংস্কৃতি’র অবক্ষয়, ইসলাম বিরোধিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিভাজনমূলক বিষয়কে হাতিয়ার করে তারা এই সাফল্য দেখিয়েছে। অর্থাৎ এসব বিষয় অনেক মানুষের কাছেই গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশ্বায়ন থেকে শুরু করে বহু জাতি-ধর্মবর্ণের সমন্বয় নিয়ে তাদের মনে সংশয় রয়েছে। মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এসব প্রশ্নের জবাব পায়নি মানুষ। সেই শূন্যতা পূরণ করতে সফল হয়েছে এএফডি। দুই প্রধান দলের মহাজোট সরকার সেই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সংসদে এএফডি দলের শক্তিশালী উপস্থিতি আগামী চার বছরের জন্য বাকি দলগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। প্ররোচণা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এই দলকে কোণঠাসা করা তাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

আগামী চার বছরে এএফডি বনাম বাকি দলগুলোর সংঘাতের ফল কোনো পথে এগোয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে জার্মানিসহ গোটা বিশ্বের মানুষ।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here