জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

0
374

200550jatisongha2পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের সাথে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা যেখানে নিয়োজিত সেখানে সাধারণ মানুষ সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হবে এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

শাহরিয়ার শুক্রবার নিউইয়র্কে নিরাপত্তা কাউন্সিল চেম্বারে ‘জাতিসংঘ শাক্তিরক্ষা অভিযানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা’ সম্পর্কিত এক মুক্ত আলোচনায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। গতরাতে এখানে প্রাপ্ত এক বার্তায় এ কথা জানা যায়। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন-মার্ক অ্যারাউলত’র সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্রিফ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন, সেন্টাল আফ্রিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট ফুসতিন-আরচেঞ্জ টিউডেরা ও আইসিআরসি’র প্রেসিডেন্ট পিটার মৌরার।

কানাডা, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, স্পেন, সেনেগাল, ইউক্রেন, নেপাল, জাপান, কোরিয়া, নাইজেরিয়া, সাইপ্রাস, আর্জেন্টিনা ও রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৪ জন মন্ত্রিপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী বলেন,সেনাবাহিনী ও পুলিশের জন্য জাতিসংঘের আহবানে সাড়া দানকারী হিসেবে বাংলাদেশ শীর্ষেই থাকবে। সবচেয়ে বেশী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশ অনুকরণীয় নজির স্থাপনে কাজ করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশের জন্য শান্তিরক্ষী প্রতিশক্ষণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় শান্তিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। পরে শাহরিয়ার আলম নিউইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়োজিত আফ্রিকায় শান্তিরক্ষা শীর্ষক এক বৈঠকে আফ্রিকার শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, সম্ভাব্য নতুন নতুন এলাকায় বাংলাদেশ আফ্রিকান ইউনিয়ন ও অন্যান্য সাব-রিজিওনাল সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে।

শাহরিয়ার বলেন,এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬০ জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী আফ্রিকায় বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্রে ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ৭৯৮ জন পুলিশ সদস্যসহ সাড়ে ৬ হাজার বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন।