জাতিসংঘে স্পিকারের বৈঠক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সক্রিয় সহায়তার আহ্বান

0
57

ঢাকা: রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহায়তা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গাবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী এবং আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইউএন একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করেছে। আগামী ২৩ অক্টোবর জেনেভায় যৌথ বৈঠকে এ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া স্পিকার জাতিসংঘের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল কফি আনানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও মানবিক সহযোগিতা’ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়কারী এবং আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। সম্প্রতি তিনি কপবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ব্রিফিংয়ে মার্ক লোকক কপবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাখাইন থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মার্ক লোকক জানান, বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জে জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে আছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ত্রাণ ও সহায়তা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা বিপন্ন রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দিয়ে অনন্য সাহসিকতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন। অসহায় মানুষের জন্য বাংলাদেশের জনগণের উদার দৃষ্টিভঙ্গিও তার পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, কপবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছেন, তিনি নিজেও পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা নির্যাতিত মানুষেরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যে নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিয়েছেন, তা শুনলে গা শিউরে ওঠে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।

স্পিকার বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যে পাঁচটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তার অনুসরণ করেই এ সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব। এ পাঁচটি পদক্ষেপ হচ্ছে- সহিংসতা ও একটি জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধ, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠানো, মিয়ানমারের ভেতর সেফ জোন তৈরি, জোর করে উচ্ছেদকৃত মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

পরে সোমবার সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক করেন। কফি আনান রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে গঠিত জাতিসংঘ উপদেষ্টা কমিশনপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংকট নিরসনে এ কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে বিভিন্ন দেশ। বৈঠককালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী একটি সুদূরপ্রসারী ও গঠনমূলক প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য কফি আনানকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় কফি আনান চলমান পরিস্থিতিতে মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং উত্তর রাখাইনের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সুবিধাজনক সময়ে কফি আনানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here