জবানবন্দি দেয়ার আগে ‘বাকশক্তি হারালেন’ মুসা

0
53
নারী দেহরক্ষীসহ মুসা বিন শমসের (সর্ব বাঁয়ে)। ফাইল ছবি
নারী দেহরক্ষীসহ মুসা বিন শমসের (সর্ব বাঁয়ে)। ফাইল ছবি

ঢাকা: শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় মুসা বিন শমসেরকে তলব করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ২০ এপ্রিল সশরীরে হাজির হয়ে তার বক্তব্য দেয়ার কথা।

কিন্তু মাত্র একদিন আগে বুধবার ম্যানেজারের মাধ্যমে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে দেখা করতে তিন মাস সময় চেয়েছেন বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী।

চিঠিতে মুসা বিন শমসের দাবি করেন, তার মুখের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। বাকশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পেয়েছে। ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না। এ কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণভাবে পর্যুদস্ত।

চিঠির সঙ্গে ডাক্তারি সার্টিফিকেট সংযুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ডাক্তার তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশ্রাম নিতে বলেছেন। যে কোনো ধরনের অনিয়মে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ কারণে সশরীরে বক্তব্য দিতে বর্তমানে তিনি অপারগ।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, মুসা বিন শমসেরের আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অচিরেই তাকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ২১ মার্চ গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা। গাড়িটি ভোলা বিআরটিএ থেকে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দিয়ে ফারুকুজ্জামান নামে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। গাড়ির চেসিস পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি কার্নেট ডি প্যাসেজের মাধ্যমে আনা হলেও শর্ত মোতাবেক পুনঃরফতানি হয়নি।

মুসা বিন শমসের গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে এবং জালিয়াতি করে অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করেন। তিনি নিজেই গাড়িটি ব্যবহার করতেন।

এর প্রেক্ষিতে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে মুসা বিন শমসেরকে সশরীরে হাজির হতে ২৩ মার্চ তাকে তলব করা হয়। কিন্তু হাজিরের আগের দিন ম্যানেজারের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে নিজেকে ‘শারীরিক ও মানসিক অসুস্থ’ উল্লেখ করে তদন্ত দলের কাছে জবানবন্দি দিতে সময় প্রার্থনা করলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here