জনবিচ্ছিন্নরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

0
87

pm_sheikh_hasina_290978ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তিনি এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দলীয় এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী রোববার সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতির ভাষণে আরও বলেছেন, আগামী নির্বাচন সহজ হবে না। অনেক কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। জনগণের কাছে যেতে হবে। কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে তুলে ধরে জনগণের মন জয় করতে হবে।

দলীয় এমপিদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, তিনশ’ আসনের জরিপ রিপোর্ট ও প্রকৃত চিত্র তার কাছে আছে। তিনি আরও জরিপ চালাবেন। নির্বাচনী এলাকায় কার কী অবস্থা, জনসমর্থন কার কেমন, আর কারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন- সব রিপোর্ট তার কাছে রয়েছে। আর যত বড় নেতাই হোক না কেন, কারোর বিরুদ্ধে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ পাওয়া গেলে মা করা হবে না। মনে রাখতে হবে, যারা জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে পেয়েছেন তারাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

এই বৈঠকে ১১ জন স্বতন্ত্র এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তারা হচ্ছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, নরসিংদী-৩ আসনের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকী, কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্য্য, ঢাকা-৭ আসনের হাজী মোহাম্মদ সেলিম, নরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খান পোটন, মৌলভীবাজার-২ আসনের আবদুল মতিন ও কুমিল্লা-৪ আসনের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

তাদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপো করলে আগামীতেও মনোনয়ন পাওয়া যাবে না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাদের দূরত্ব রয়েছেন, তার দ্রুত সমাধান করে দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বৈঠকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। কয়েকজন এমপি জানিয়েছেন, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে খবর আছে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন তার এলাকায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। তিনি মামলা তুলে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়ই হবে। তাই এখন থেকেই নির্বাচনী এলাকায় থেকে জনগণের মন জয় করার চেষ্টা করতে হবে। তিনি কারও দায়িত্ব নিতে পারবেন না। তাই দলীয় এমপিদের নিজের আসনে নিজেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারের গত আট বছরের ব্যাপক সাফল্যগুলো তুলে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে, দিন শেষে জনগণের কাছেই যেতে হবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ ও অনৈক্য বরদাশত করা হবে না। তিনি আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপিদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

এমপিদের পরীক্ষা নিলেন প্রধানমন্ত্রী: প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকের পুরোটাই ছিল নির্বাচনী তৎপরতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বার বার এমপিদের সরকারের উন্নয়ন-সাফল্যেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি কয়েকজন এমপির পরীাও নেন। তিনি জানতে চান, সরকার কতজন শিার্থীকে বিনামূল্যে বই দিয়েছে? কতজনকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হচ্ছে? কতজনকে অসহায়-বিধবা ভাতা দেওয়া হচ্ছে? বেশিরভাগ এমপিই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি পড়াশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সরকার ব্যাপকভাবে আর্থ-সামাজিক বিপ্লব ও উন্নয়ন করেছে। এখন এমপিরাই যদি এসব বিষয়ে অজ্ঞ হোন, তবে জনগণকে কীভাবে অবহিত করা হবে। সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের অগি্নসন্ত্রাস, নাশকতা, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচারের চিত্রগুলোও তুলে ধরার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী এসব অপশক্তি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাই সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থেকে জনগণের কাছে তাদের নেতিবাচক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। জনগণকে এ ব্যাপারেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অতীতের ভুল চিহ্নিত করে তা এমপিদেরকেই সংশোধন করতে হবে।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন জুনাইদ আহমেদ পলক, তারানা হালিম, ড. হাছান মাহমুদ, আতিউর রহমান আতিক, মোতাহার হোসেন, সাধন চন্দ্র মজুমদার, ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না প্রমুখ। তারা মন্ত্রীদের সহযোগিতার পাশাপাশি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে চান। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অনেক মন্ত্রীই কথা দিয়ে কথা রাখেন না। এমপিরা এলাকার সমস্যা নিয়ে গেলে অনেক মন্ত্রীই বিমাতাসুলভ আচরণ করেন। একজন এমপি তাদের জন্য থোক বরাদ্দের এক কোটি টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা সোলার প্যানেলে ব্যয় করার নির্দেশ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করে বলেছেন, শহর এলাকায় এমনিতেই সোলার প্যানেলের প্রয়োজন নেই। উপরন্তু ৫০ লাখ টাকা সোলার প্যানেলে ব্যয়ের ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ কমে যায়।

স্বতন্ত্র এমপিদের আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রয়োজন পড়ে না :লিটন

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সম্পাদক নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বতন্ত্র এমপিরা আওয়ামী লীগেরই নেতা। বিশেষ প্রোপটে গত নির্বাচনে তারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন। তাই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রয়োজন পড়ে না। তবে বৈঠক থেকে স্বতন্ত্র এমপিদের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here