জনগণ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে : বদরুদ্দোজা চৌধুরী

0
96

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ায় সরকার হস্তক্ষেপ করবে কি-না- তা নিয়ে জনমনে সংশয় দৃঢ় হচ্ছে। তার আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আপিল ও জামিনের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে জনগণ।

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে বললে বুধবার সমকালকে এসব কথা বলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, মানুষের সন্দেহের মতো যদি কিছু ঘটে, খালেদা জিয়ার মৌলিক ও মানবাধিকার অধিকার যদি লঙ্ঘিত হয়, তাতে ‘অস্থিতিশীলতা’ তৈরি হতে পারে। এতে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারই দায়ী থাকবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশ মুখে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে। বিরোধী দলের মিছিল-মিটিংও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারি দলের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় সাহায্য করেছে পুলিশ। সরকারদলীয় নেতা ও মন্ত্রীরা অগণতান্ত্রিক ও উত্তেজক বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচনের বছরে এসব ঘটনা নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পরিবেশ ভয়াবহভাবে দূষিত করেছে। জনগণ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই বলে দাবি সাবেক এই রাষ্ট্রপতির। তিনি এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ দাবি করে যুক্তফ্রন্টের প্রধান বলেন, এই সংকট সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় কর্মীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের ভূমিকাও জনগণ প্রত্যক্ষ করছে। তাদের এমন কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়া উচিত হবে না, যা জনগণকে বিপদগ্রস্ত করে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিপন্ন করে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সে ব্যাপারে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির এই সাবেক নেতা।

নিজের রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে ঘোষণা দেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশবাসী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়। এমন নির্বাচন চায়, যার মাধ্যমে সত্যিকারের জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে এই ব্যবস্থা করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে নির্বাচন কমিশনকেও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য-বিবৃতি ও কর্মকাণ্ড দেখে দেশবাসীর সঙ্গে তিনিও উদ্বিগ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here