জনগণের সেবা করেছি, কি পেলাম তার হিসেব করিনি

0
55

ঢাকা: ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় জাতির পিতাকে হত্যা করে উন্নয়ন গতিরোধ করা হয়েছিল। আমি জাতির পিতার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দেশের ও জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি। এতে কি পেলাম আর কি পেলাম না তার হিসেব করিনি। সব সময় লক্ষ করেছি জনগণ কি পেল’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ২০ তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। শুধু তিনটি শর্ত পূরণ করিনি, আমরা এর থেকেও অনেক বেশি এগিয়ে আছি। আগামী ছয় বছরের অর্জন আমরা আগে ভাগেই শেষ করে ফেলেছি। আমাদের আর কেউ নিচে ফেলে দিতে পারবে না। জাতির পিতার দেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারবে না।’

‘উন্নয়নের এই গতিধারা অব্যাহত রাখতে হলে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বা অন্য কেউ যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে না। তাই আমি জনগণের কাছে এ বিষয়টি ছেড়ে দিলাম। তারা যদি চায় দেশের উন্নয়ন হউক তাহলে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসি ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, জনগণ যদি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেয় তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে উন্নীত হবো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ ১৯৯৬ সালে করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবারও খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিনত হয়। তাদের আমলে ৪০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পেত না এখন ৯০ ভাগ পায়। আমরা স্বাক্ষরতার হার পেয়েছিলাম ৪৫ তা উন্নীত করেছিলাম ৬৫ ভাগ, তা আবার বিএনপির আমলে নেমে যায়। এখন আছে ৭২ ভাগ। এসবের জন্য মনে হয় অন্য কেউ ক্ষমতায় আসলে তা ধরে রাখতে পারবে না। তাই আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় দরকার। আগে পার্লামেন্টে খেউর খিস্তি হতো এখন তা হয় না, এখন গঠনমূলক সমালোচনা হয়।’

‘উন্নয়নের ছোঁয়া এখন গ্রামেও লেগেছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি গ্রাম নগর হয়ে উঠবে। প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, ঘর পাবে, কেউ আর গৃহহীন থাকবে না। ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। দেড় কোটি মানুষ কাজ পেয়েছে। গত ৯ বছরে ৫২ লাখের মত মানুষ বিদেশে গেছে, রেমিটেন্স আসছে। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলেছি। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে উন্নয়ন ঘটতে পারে সেদিকে নজর দিচ্ছি। ব্যাংক লোন পাচ্ছে, রাস্তার উন্নয়ন হচ্ছে। রেলের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছেই। ছেলে মেয়েদের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। কম্পিউটার শিক্ষা দিচ্ছি, ল্যাব করে দিচ্ছি। বহু ছেলে মেয়ে এর ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছে।’