জঙ্গি রেজওয়ান দেশে ফেরায় গোয়েন্দা সংস্থায় তোলপাড়

0
99

untitled-2_292454ঢাকা: জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে রেজওয়ান হারুন নামে এক যুবককে খুঁজছিল একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দেশের বাইরে থাকায় তাকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছিল না। দু’দিন আগে যুক্তরাজ্য থেকে সে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশে ঢুকে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তোলপাড় চলছে। নিরাপত্তা তল্লাশি ফাঁকি দিয়ে কীভাবে রেজওয়ান দেশে ঢুকল তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানায়। তবে দেশে সে কোথায় রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি গোয়েন্দারা।

সূত্রটির দাবি, গত কয়েক বছর ধরে রেজওয়ান হারুন উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের জঙ্গিবাদের পথে নিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছিল। তার সঙ্গে জামায়াতুল মুসলেমিনের আমির আবু ইসা আল রাফাইয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ইসা জর্ডানের নাগরিক। পরে সে যুক্তরাজ্যে যায়। ২০০২ সাল থেকে আল কায়দার আদর্শে বিশ্বাসী রেজওয়ান বাংলাদেশি কিছু তরুণকে টার্গেট করে জঙ্গিবাদের পথে আনার চেষ্টা চালায়।

কথিত জিহাদে অংশ নিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। ওই সময় জামায়াতুল মুসলেমিন ঢাকাসহ ১৩টি জেলায় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৫ সালে ওই সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে সংগঠনের সদস্যরা রিসার্চ সেন্টার ফর ইউনিটি ডেভেলপমেন্টের (আরসিইউডি) নামে একটি এনজিও খুলে তার আড়ালে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম শুরু করে। পরে ড. রেজাউল রাজ্জাক জামায়াতুল মুসলেমিনের আমির হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। ওই সময় রেজওয়ান জামায়াতুল মুসলেমিনের সঙ্গে জড়িত হয়। রাজধানীতে তার নিজেদের বাড়িতে চলে উগ্রপন্থি তৎপরতা। এ ছাড়া বনানীতে একটি কার্যালয়ে সাঙ্গোপাঙ্গকে নিয়ে সে প্রায়ই গোপন কার্যক্রম চালায়। সেখানে যাতায়াত ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানিরও। পরে ধানমণ্ডির লেক হেড গ্রামার স্কুলেও গোপনে উগ্রবাদী তৎপরতা শুরু করে রেজওয়ান। ওই স্কুলে যাতায়াত ছিল হিযবুত তাহ্রীরের আদর্শে বিশ্বাসী অধ্যাপক গোলাম মাওলার।

গোয়েন্দারা বলছেন, রেজওয়ান দু’দিন আগে যে দেশে এসেছে, তা সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়েছে। সে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। তা হলো- বিএইচ-০৬৩৪১৩৭ ও এই-৬০১৬৯৩৩ নম্বরের। দুটি পাসপোর্টের মেয়াদ রয়েছে। রেজওয়ান হারুনের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি রয়েছে, যারা এরই মধ্যে জঙ্গি দলে জড়িয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক শিক্ষক ফারজাদ হক তুরাজ। দীর্ঘদিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। রেজওয়ানের ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আছে লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক শিক্ষক তেহজিব করিম ও রাজীব করিম।

রাজীব বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কারাগারে রয়েছে। ঘনিষ্ঠদের তালিকায় আরও রয়েছে লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক শিক্ষক তাসনুভা হায়দার, ইয়াছিন তালুকদার, ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় অভিযুক্ত রেদওয়ানুল আজাদ রানা, লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক শিক্ষক মহিউদ্দিন শরীফ, ইফতেখার আহমেদ সনি, আরিফুর রহমান, লেকহেড গ্রামার স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ জেনিফার আহমেদ, মনিরুজ্জামান মাসুদ, তেহজীব করিমের স্ত্রী সিরাত করিম ও ড. রেজাউর রাজ্জাক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here